অ্যাস্ট্রা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়ন পেল কুকুর ইন্ডি
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দর্শকরা। মানুষের জন্য নির্ধারিত মূলধারার অভিনয় ক্যাটাগরিতে প্রথমবারের মতো কোনো প্রাণী অভিনেতা মনোনয়ন পেয়েছে। নোভা স্কটিয়ার একটি রিট্রিভার প্রজাতির কুকুর ‘ইন্ডি’ অ্যাস্ট্রা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসের ৯ম আসরে হরর বা থ্রিলার বিভাগে ‘সেরা ভূতুড়ে বা রোমাঞ্চকর অভিনয়’ পুরস্কারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হয়েছে।
আগামী ৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই পুরস্কার আসরেই ইতিহাস গড়ার সুযোগ পাচ্ছে চারপেয়ে এই অভিনেতা। মানুষের সঙ্গে একই অভিনয় বিভাগে কোনো প্রাণী অভিনেতার মনোনয়নের ঘটনা এটিই প্রথম।
হরর-থ্রিলার ঘরানার সিনেমা ‘গুড বয়’-এ অভিনয়ের সুবাদে এই মনোনয়ন পেয়েছে ইন্ডি। সিনেমাটিতে সে একজন বিশ্বস্ত কুকুরের চরিত্রে অভিনয় করেছে, যে অতিপ্রাকৃত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজের মালিককে রক্ষা করে।
নির্মাতা বেন লিওনবার্গ পরিচালিত সিনেমাটি ২০২৫ সালে মুক্তি পায়। নাম শুনে সাধারণ পোষা কুকুরের গল্প মনে হলেও বাস্তবে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ হরর সিনেমা, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইন্ডি। গল্পের নায়কও মূলত সে-ই।
সিনেমার গল্প শুরু হয় ইন্ডি ও তার মালিকের শহর ছেড়ে গ্রামাঞ্চলের একটি পুরোনো পারিবারিক বাড়িতে বসবাসের মাধ্যমে। চারপাশের নিস্তব্ধতা ও অচেনা পরিবেশে অশুভ উপস্থিতি প্রথম টের পায় মানুষ নয়, ইন্ডি নিজেই।
এই ছবির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—গল্প বলা হয়েছে কুকুরের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। ক্যামেরা প্রায়ই ইন্ডির চোখের উচ্চতায় নেমে আসে। ফলে দর্শকও তার সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকার ঘর পেরোয়, অচেনা শব্দে চমকে ওঠে এবং বিপদের আশঙ্কা অনুভব করে। ছবিতে ‘জাম্প স্কেয়ার’ কম হলেও ধীরে ধীরে টানটান আতঙ্ক তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: ‘অ্যাভাটার’ লুকে গোবিন্দ!
সমালোচকরা একমত যে, ‘গুড বয়’ কোনো ‘কিউট কুকুর’ দেখানোর সিনেমা নয়। ইন্ডির চোখের ভাষা, থমকে যাওয়া, ভয়, সতর্কতা ও সাহস—সবকিছুই এতটাই বিশ্বাসযোগ্য যে ছবির ভীতিকর ও রোমাঞ্চকর আবহ প্রায় পুরোপুরি তার উপস্থিতির ওপর নির্ভর করেছে।
থ্রিলার ও হরর সিনেমায় নীরবতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইন্ডি অপ্রয়োজনীয় শব্দ ছাড়াই কেবল উপস্থিতি দিয়ে সাসপেন্স ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অনেক সমালোচকের মতে, ইন্ডির অভিনয় এতটাই স্বাভাবিক ছিল যে, তাকে প্রশিক্ষিত প্রাণী নয়, বরং গল্পের একটি জীবন্ত চরিত্র মনে হয়েছে।
মজার ও বিস্ময়কর বিষয় হলো, একই বিভাগে ইন্ডির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন হলিউডের পরিচিত তারকা ইথান হক, স্যালি হকিন্স ও সফি থ্যাচার। মানুষের অভিনয়ের জন্য নির্ধারিত এই বিভাগে একটি কুকুরের উপস্থিতি চলচ্চিত্র ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি।
ইন্ডির অভিনয় ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছে। এমনকি তাকে অস্কার মনোনয়নের জন্য বিবেচনায় আনার চেষ্টাও করা হয়েছিল। তবে একাডেমির নিয়ম অনুযায়ী প্রাণী অভিনেতারা অস্কারের মনোনয়নের যোগ্য নন, ফলে সেখানে সুযোগ হয়নি।
এর আগেও সিনেমায় প্রাণীদের অভিনয়ের স্বীকৃতি মিলেছে ভিন্নভাবে। ১৯২৯ সালে অস্কারের প্রথম আসরে ‘রিন টিন টিন’ নামের একটি জার্মান শেফার্ড কুকুর সেরা অভিনেতা ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও শেষ মুহূর্তে একজন মানুষকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১১ সালে ‘দ্য আর্টিস্ট’-এ ‘আগি’ এবং সাম্প্রতিক সময়ে ‘অ্যানাটমি অফ আ ফল’-এ ‘মেসি’ নামের কুকুর কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘পাম ডগ’ পুরস্কার জেতে।
তবে মানুষের জন্য নির্ধারিত মূলধারার অভিনয় ক্যাটাগরিতে সরাসরি মনোনয়ন পাওয়ার ঘটনা এই প্রথম।
অ্যাস্ট্রা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসে ইন্ডির এই মনোনয়ন প্রাণী অভিনেতাদের সক্ষমতা ও গুরুত্ব নতুনভাবে আলোচনায় এনেছে। চলচ্চিত্রে গল্পের প্রয়োজনে প্রাণীদের ভূমিকা থাকলেও এমন স্বীকৃতি বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন দেখার বিষয়, ৯ জানুয়ারি অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চে সত্যিই কি ইতিহাসের আরও একটি অধ্যায় রচনা করতে পারে ইন্ডি—একটি কুকুর, যে মানুষের সঙ্গে একই মঞ্চে অভিনয়ের স্বীকৃতির জন্য লড়াই করছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








