প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন নির্দেশনা
ফাইল ছবি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষা আগামী ২ জানুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই পরীক্ষা ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হবে। তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে একযোগে এ পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্তভাবে সম্পন্ন করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রবেশপত্র ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো বই, উত্তরপত্র, নোট বা অন্য কোনো কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগ, পার্স, হাতঘড়ি বা ঘড়ি জাতীয় বস্তু, ইলেকট্রনিক হাতঘড়ি কিংবা যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারবেন না। কোনো পরীক্ষার্থী এসব নিষিদ্ধ দ্রব্য সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের ব্যবহৃত টয়লেটেও এসব দ্রব্য যেন না থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রে প্রবেশের সময় থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের উভয় কান সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে। এই শর্তটি প্রবেশপত্রেও সংযোজিত রয়েছে এবং কক্ষ পরিদর্শকদের তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের কানের ভেতরে ব্লুটুথ সংযুক্ত স্পাইক এয়ারফোন রয়েছে কি না, তা টর্চ লাইট ব্যবহার করে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: জানুয়ারিতে ক্লাস শুরুর আশায় নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়
পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে জানানো হয়েছে, লিখিত পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত আসনে বসতে হবে এবং পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী কক্ষ ত্যাগ করতে পারবেন না। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই নিজ নিজ নির্ধারিত আসনে বসতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে সতর্কীকরণ ঘণ্টা বাজাতে হবে এবং একই সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে তালাবদ্ধ করতে হবে। এরপর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ বা কেন্দ্র ত্যাগ করতে দেওয়া যাবে না। নির্ধারিত সময়ের পর ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কাউকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ বা বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।
নির্দেশিকা প্রকাশ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন শাখার পরিচালক ও যুগ্মসচিব এ. কে. মোহাম্মদ সামছুল আহসান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষার আগেই একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়, যাতে পরীক্ষার্থীরা তাদের করণীয় সম্পর্কে আগেই অবগত থাকতে পারেন। তিনি এ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত অংশ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রস্তুত করা একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর অধিদপ্তরের পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিটি দেশের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য লিখিত পরীক্ষা পরিচালনায় আইসিটি-বুয়েটের তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে এবং সফটওয়্যার ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।
চিঠি অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণ আগামী ২২ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে ঢাকার পলাশীতে অবস্থিত আইসিটি, বুয়েটের সিপিএ ভবন–৬-এ একদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও অফিসিয়াল ই-মেইল ঠিকানা আগামী ২০ ডিসেম্বর দুপুর ২টার মধ্যে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে এবং নির্ধারিত দিনে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা বিধি অনুযায়ী তাদের নিয়োগ খাতের বরাদ্দ অর্থ থেকে ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা (টিএ/ডিএ) পাবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক এ. কে. মোহাম্মদ সামছুল আহসান জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং আগ্রহী কর্মকর্তাদের তথ্য আহ্বান করা হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








