জাবিতে ভবন বরাদ্দ নিয়ে তুলকালাম
জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বরাদ্দকৃত ভবন নিয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ এবং কম্পিউটার সায়েন্স ও ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা বরাদ্দকৃত কম্পিউটার সায়েন্স ভবনের তৃতীয় তলায় আসবাবপত্র রাখতে গেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে উভয়পক্ষই এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ৮টা) ভবনের সামনে অবস্থান করছে।
জানা যায়, রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে উক্ত ভবনের তৃতীয় তলার বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়। এর আগে ২০০৩ সালের এক সিন্ডিকেট বৈঠকের সিদ্ধান্তে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে কম্পিউটার সায়েন্স ভবনের তৃতীয় তলার বরাদ্দ দেয়া হয়।
এই ভবনের ১ম এবং ২য় তলা কম্পিউটার সায়েন্স ও ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ ব্যবহার করে। গত মাসে উক্ত ভবনের তৃতীয় তলার কাজ শেষ হলেও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে বুঝিয়ে না দিলে তারা আন্দোলনে নামে।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ওই অফিস আদশ নিয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা আসবাবপত্র নিয়ে উঠতে গেলে ভবনের কম্পিউটার সায়েন্স এবং ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাধা দেয়। তারা ভবনের দুটি ফটকের দখল নিয়ে অবস্থান নেয়। পরে বিকেল চারটার দিকে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসময় উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।
কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বিভাগে শ্রেণী কক্ষের সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস হয় না। শুরু থেকেই তাদের বিভাগের শিক্ষকরা তৃতীয় তলার নির্মাণ কাজের তদারক করেন। এ অবস্থায় পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ এখানে উড়ে এসে জুড়ে বসতে যাচ্ছে।
এদিকে সকাল থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এবং ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যকে অফিস আদেশ বাতিলের জন্য চাপ দিতে থাকেন।
সিন্ডিকেট সদস্য ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক হানিফ আলী বলেন, “আমরা শুরু থেকেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা গায়ের জোরে তা দখল করতে চাচ্ছেন।”
অন্যদিকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, “সিন্ডিকেট বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা তৃতীয় তলা দখল বুঝে নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু এভাবে শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “উদ্ভূত জটিলতা নিরসনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএম
নিউজবাংলাদেশ.কম








