News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৫৪, ১০ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০২:৩৫, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

আজ রাতেই ফাঁসি!

আজ রাতেই ফাঁসি!

ঢাকা: শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকার স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন দেখা যায়। দ্রুতই জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একটি সূত্র জানায়, কারাগারে বাইরে থেকে খাটিয়া এবং চাটাই নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা নিউজবাংলাদেশ.কমকে জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী নাজিমুদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢোকেন। তার ঠিক তিন মিনিটের মাথায় একটি পিকআপ ভ্যান এসে থামে। সেই ভ্যান থেকে কয়েকটি চাটাই (সাধারণত লাশ পরিবহনে ব্যবহার করা হয়) ও খাটিয়া নামিয়ে জেলের ভেতরে নেওয়া হয়।

এছাড়া রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে একটি অ্যাম্বুলেন্সকে কারাগার এলাকায় দেখা যায়। তবে কথা বলে জানা যায়, এটি কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য আসেনি।
 
এদিকে, কারগার এলাকার নিরাপত্তা ও সার্বিক অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে লালবাগ জোনের ডিসি মফিজউদ্দিন আহম্মেদ নিউজবাংলাদেশ.কমকে বলেন, “লোকসমাগমকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।” কামারুজ্জামানের ফাঁসি কি আজ রাতেই দেওয়া হবে নাকি- এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।

চকবাজার থানার ওসি আজিজুদ্দিনকে একই প্রশ্ন করলে তিনিও এড়িয়ে যান। তবে তিনি বলেন, “বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে, তাই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।”  

মোটকথা কেউ কিছু বলতে চাচ্ছেন না, তবে বিরাজমান পরিবেশ-পরিস্থিতিতে জেলগেটের সামনে উপস্থিতদের অনেকেই ধারণা করছেন, আজ রাতেই হয়তো হতে যাচ্ছে কামারুজ্জামানের ফাঁসি। আর তা হলে হয়তো ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে হয়ে যাবে। সর্বশেষ রাত পৌনে ৯টার দিকে জানা গেছে, কারা চিকিৎসক ও লালবাগ জোনের ডিসি কারাগারে প্রবেশ করেছেন। একই সময়ে একটি টিভি চ্যানেল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বরাতে জানায়, কামারুজ্জমানকে আর সময় দেয়া হচ্ছে না।   

এদিকে, সাংবাদিকরা যেখানে গত কয়েকদিন ধরে তাদের বাহন বিশেষ করে মোটরসাইকেল পার্ক করেছেন, জেলখানার ডানদিকের সেই জায়গাটায় গিয়ে আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যার পর থেকে কিছুটা প্রতিবন্ধকতরার মুখে পড়েন। পুলিশ সদস্যরা এসময় তাদের জানান, আজ রাত অনেক সময় পর্যন্ত থাকতে হতে পারে। লোকসমাগম বাড়তে পারে, গ্যাঞ্জাম হতে পারে। তাই সেখানে মোটরসাইকেল না রাখার অনুরোধ করেন তারা।

প্রসঙ্গত, সন্ধ্যার আগে দিয়ে হঠাৎ করেই লোকসমাগম বেড়ে যায় জেলখানা মোড়ে। এরই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে থাকে। ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আলবদর কমান্ডার ও বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামরুজ্জামানের ফাঁসির চূড়ান্ত রায়, এই রায় কনডেম সেলের বাসিন্দা কামারুজ্জামানকে শোনানো এবং এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি ক্ষমা চাইবেন কি না- এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন যাবত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকা মিডিয়াকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের সমাগমের কেন্দ্রে পরিণত হয়। তবে এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যায়। সারাদিন তেমন লোকজন ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই সন্ধ্যার পর থেকে লোক সমাগম বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিবিসি বাংলায় জানায়, ‘কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষা চাননি’।  

তবে এখন পর্যন্ত এটা বলা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াত নেতা কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমা চাইবেন কিনা তা কার্যত ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে শুক্রবার সকালে দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারে গেলেও বের হওয়ার সময় তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। সিনিয়র জেলসুপার ফরমান আলীও এ বিষয়ে মুখ খুলেননি।

রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে কামারুজ্জামানের সিদ্ধান্ত জানতে শুক্রবার সকাল নয়টা ৪০ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ ও মাহমুদ জামিল। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তারা বের হয়ে যান। কিন্তু এসময় তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। এর কিছুক্ষণ পরে দুপুর ১২টার দিকে বের হয়ে যান সিনিয়র জেলসুপার ফরমান আলী। তিনিও সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

এতে করে কামারুজ্জামান ক্ষমা চাইবেন কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।

ফরমান আলী বেরুনোর পর ১২টা ১০ মিনিটে নিউজবাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফোন করা হয় কামারুজ্জামানের ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামিকে। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে দেখা করার জন্য বলেছে কিনা। তিনি বলেন, “না, এখনো কারা কর্তৃপক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।”

এরপর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফের ফোন করা হয় ওয়ামিকে। তখনো তিনি জানান, তাদেরকে কিছুই জানানো হয়নি এবং তার পিতার ক্ষমাভিক্ষার বিষয়েও তারা কিছু জানেন না।

এর আগে বৃহস্পতিবার কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি বিষয়টি নিয়ে আরো ভাববেন বলে জানান। পরে দুপুরে এ বিষয়ে জানতে একজন ম্যাজিস্ট্রেট যান কারাগারে। তখন কামারুজ্জামান তার কাছে আরো একদিনের সময় চেয়ে নেন।

সে অনুযায়ী শুক্রবার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা। স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রীও বলেছেন, শুক্রবারের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এর আগে বুধবার কামারুজ্জামানকে চূড়ান্ত রায়ের কপি পড়ে শোনানোর পর তিনি রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমা চাইবেন কিনা তা জানতে চাইলে কামারুজ্জামান এ জন্য একদিনের সময় নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল কামারুজ্জামানের রায়ের রিভিউ আবেদন শুনানি শেষে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এর আগেই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে মৃত্যুপরোয়ানা জারি ও তা কামারুজ্জামানকে পড়ে শোনানো হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনএইচ/একে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়