দেড়শ’ বছরের পুরনো জলাশয় ভরাট করে বাণিজ্যিক প্রকল্প
মিরসরাই: পৌরসভায় অনুমোদন না নিয়ে প্রায় দেড়শ’ বছরের পুরনো জলাশয় ভরাট করে বাণিজ্যিক প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
জানা গেছে, পৌরসভার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন পশ্চিম পাশে থানা থেকে একশ’ গজ দূরে অবস্থিত জলাশয়টিতে গত শুষ্ক মৌসুমে ঊষা ডেভেলপারস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী মাটি ভরাট শুরু করে। কিছু অংশ মাটি ভরাটের পর ভরাট কাজ বন্ধ করে দেয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চলতি শুষ্ক মৌসুমে ৪ লেন সড়কের কাজের অসুবিধার কারণে মাটি ভরাট কাজ করতে না পারলেও জলাশয়ের চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। পৌর আইন অনুযায়ী, জলাশয় ভরাট করতে হলে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট পৌরসভা থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়।
কিন্তু পুকুর ভরাট করে বাণিজ্যিক প্রকল্প গড়ে তোলার কাজ শুরু করলেও ঊষা ডেভেলপারস কোনো ছাড়পত্র নেয়নি। পৌরসদরে জলাশয় রয়েছে ৫টি। স্থানীয়দের আশংকা, এরমধ্যে একটি ভরাট করে ফেলা হলে অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ দুর্যোগসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পানির সংকট দেখা দিতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসদরে ৪-৫টি পুরনো পুকুর রয়েছে। এরমধ্যে একটি পুকুর ভরাট করে বাণিজ্যিক প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে জলাশয় যেমন কমে যাচ্ছে তেমনি প্রয়োজনের সময় পানির তীব্র সংকট দেখা দেবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুকুরপারের গাছপালা এরই মধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। মাটি ভরাট কাজে যেন বাধা না আসে এজন্য পরিকল্পিতভাবে পুকুরের চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। সীমানা প্রাচীরের ফলে পুকুরটি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছে।
প্রাচীরগুলোতে লেখা রয়েছে, প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক প্রকল্প, ঊষা ডেভেলপার লিমিটেড। পুকুরের ভিতরের কিছু অংশেও মাটি ভরাট করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকার সাইড অফিসে মো. জব্বার চৌধুরী নামে এক কর্মকর্তাকে বসে থাকতে দেখা গেছে। তিনি প্রকল্পের কাজকর্ম তদারকি করেন।
এ জলাশয় ভরাট করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র আছে কিনা এর স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে মো.জব্বার চৌধুরী নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “আমাদের কোম্পানি এখানে কোনো কাজ করছে না।” সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও মাটি ভরাটের ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।
মিরসরাই পৌরসভার প্রকৌশলী সমর মজুমদার নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “পৌরসভায় জলাশয় ভরাট করতে হলে পৌরসভা থেকে অনুমতি নিতে হয়। এর আগে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে আসতে হয়।”
তিনি আরো বলেন, “কিন্তু ঊষা ডেভেলপারস লিমিটেড পুকুর ভরাটের জন্য অনুমতির আবেদন করলেও তার কাছে অন্য দুইটি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র নেই। তাই পৌরসভা থেকে তাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়নি।”
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মকবুল আহম্মদ নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “জলাশয় ভরাটের ফলে পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়ে। একের পর এক জলাশয় ভরাটের কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।”
তিনি আরো বলেন, “শহর এলাকায় প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। পৌরসদরে পুকুর ভরাট করার বিষয়ে আমার জানা নেই। কেউ পুকুর ভরাটের জন্য অনুমতিও নেয়নি।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/এটিএস
নিউজবাংলাদেশ.কম








