ফোনে নারী কন্ঠ, প্রতারণার নতুন ফাঁদ
ঢাকা: অনলাইন থেকে প্রথমে বেছে নেয়া হয় ল্যাপটপ, মোবাইল বা দামি কোনো পণ্য বিক্রয়ে ইচ্ছুক এমন ব্যক্তিদের। পরে প্রেমিকা আফসানাকে দিয়ে ফোন করানো হয় বিক্রেতার কাছে। বলা হয়, মেয়ে তো, তাই বাহিরে গিয়ে দেখতে পারবে না। তার চেয়ে আমার অফিসে চলে আসুন। জিনিস দেখে পছন্দ হলে নগদ টাকা দিয়ে কিনে নেয়া হবে। স্বাভাবিকভাবেই সুরেলা নারী কণ্ঠের এমন প্রস্তাব পেয়ে বিক্রেতারা আর দেরী না করে চলে যান নির্ধারিত ঠিকানায়। সেখানে আগে থেকেই আফসানাকে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন প্রেমিক তানভির হোসেন নির্ঝর ও তার সহযোগি রানা রায়হান।
বিক্রেতা আসার সাথে সাথে একদিকে কাঙ্খিত পণ্যটি (ল্যাপটক, মোবাইল, ম্যাকবুক) হাতে নিয়ে ভালোমত দেখতে থাকে আফসানা। অন্যদিকে বিক্রেতার সাথে গল্পে জমিয়ে তুলেন তানভির ও রানা। সুযোগ বুঝে অফিসের বসকে দেখিয়ে আনার কথা বলে কোনো এক ফাকে সটকে পরেন আফসানা। তারপর তানভির আর রানাও তাকে না চেনার অভিনয় করে বেড়িয়ে যান বাহিরে। এভাবেই প্রেমিকা আফসানাকে দিয়ে গত একমাসে ৪টি ল্যাপটপ হাতিয়ে নেয় এই চক্রটি।
শনিবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর আদাবর এলাকার শাহজাহানের বাড়ি থেকে ওই চক্রকে আটক করে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব-২)। আটককৃতরা হলেন, আফসানা (১৯), তানভির হোসেন নির্ঝর (২৩) ও রানা রায়হান (৩৬)।
এসময় অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া র্যাব-২ এর পরিচালক (সিও) লে. কর্ণেল মাসুদ রানা বলেন, “আফসানা ও তার প্রেমিক নির্ঝর অনলাইনে বিভিন্ন স্মার্টপণ্য কেনার কথা বলে বিক্রেতার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। পরে কোনো এক নামিদামি অফিসে বিক্রেতাদের ডেকে নিয়ে কৌশলে ওইসব পণ্য হাতিয়ে নেন প্রতারকচক্র।”
এমন প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী দুজন র্যাবের কাছে দাবি করেন, ল্যাপটপ ও ম্যাকবুক কেনার কথা বলে তাদের পান্থপথের ক্রাউন চেম্বার ও আরটেক নামে দুটি প্রতিষ্ঠানে ডেকে নেয়া হয়। কথা বলার এক ফাঁকে বসকে দেখাবেন এমন কথা বলে তারা জিনিস নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে বিক্রেতা ওই অফিসে খোঁজ নিয়ে জানেন আসলে তারা ওই অফিসের কেউ না। এভাবেই বিক্রেতারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-২ এর একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল এই চক্রকে আটক করে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনএইচ/এএইচকে
নিউজবাংলাদেশ.কম








