News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৪৩, ১১ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ১১:০২, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

‘লাশ শেরপুরে দাফন করতে দেওয়া হবে না’

‘লাশ শেরপুরে দাফন করতে দেওয়া হবে না’

শেরপুর: ৭১ এর যুদ্ধাপরাধী নালিতাবাড়ির সোহাগপুর বিধবা পল্লীর ১৮৭ জন সাধারণ মানুষকে হত্যার অভিযোগসহ অন্যান্য অপরাধে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে।

এদিকে, মানবতা বিরোধী অপরাধী কামারুজ্জামানের লাশ শেরপুরের মাটিতে দাফন না করার দাবিতে গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্বারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শেরপুর জেলা কমান্ড।

এ ব্যাপারে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও কামারুজ্জামানের স্ত্রীর বড়ভাই আবু সালেহ নূরল ইসলাম হিরু জানিয়েছেন, “লাশ শেরপুরে দাফন করতে দেওয়া হবে না।”

লাশ আনায় বাধা আসতে পারে- এমন বিষয় মাথায় রেখে হেলিকপ্টারে মরদেহ নিজ গ্রামে আনা হবে বলে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে।

কামারুজ্জামানের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে নিজ বাড়ি বাজিতখিলা এলাকার কুমড়িতে কামারুজ্জামান প্রতিষ্ঠিত এতিমখানায়। এতিমখানার পাশে সম্প্রতি ক্রয় করা ধান ক্ষেতের কোনায় তাকে দাফন করা হবে।

শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কবরের নির্ধারিত স্থানে ধানের চারা কেটে ওই জায়গায় মাটি ভরাট করা হয়েছে। তবে অজানা আতংকে কামারুজ্জামানের বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করছে না এলাকাবাসী। এলাকায় পূর্বের তুলনায় লোকজনও কমে গেছে।

অপরদিকে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন বলেন, “পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যেক সাক্ষীর নিরাপত্তার জন্য ১ জন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। তারা প্রতি মুহুর্তেই তাদের (সাক্ষীদের) ওপর নজর রাখছেন।” তবে এ খবর লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ফাঁসি কার্যকর সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ধরণের সরকারি নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম বলেন, “কোথায় কবর হবে বা হবে না তার সিদ্ধান্ত আমরা দেই না। তবে; সরকারি আদেশ যে কোনও মূল্যে আমরা তামিল করব।”

যে অপরাধকে কেন্দ্র করে কামারুজ্জানের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয়া হয়, সেই অপরাধের সংঘটনস্থল সোহাগপুরের বিধবা, সাক্ষীদের নিরাপত্তায় পুলিশ ইতোমধ্যে সেখানে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছেন নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল হক।

শনিবার দুপুরের পর থেকেই কামারুজ্জামানের নিজ গ্রামের বাড়ি কুমড়ি বাজিতখিলাসহ পুরো এলাকায় আইনশৃংখলা বাহিনী তৎপর  রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়