News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৫১, ৯ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ১০:৫৯, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

চার্জশিটে পলাতক ১৩জন

চার্জশিটে পলাতক ১৩জন

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ভারতে গ্রেফতার হলেও মামলার তদন্তকারী সংস্থার দৃষ্টিতে এখনো তিনি ‘পলাতক’। সেভেন মার্ডারের ঘটনায় বুধবার নারায়ণগঞ্জের আদালতে দায়ের করা চার্জশিটে নূর হোসেনসহ অভিযুক্ত ১৩ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

গত বছরের ১৪ জুন ভারতের কলকাতা থেকে নূর হোসেন গ্রেফতার হয়ে এখন ওই দেশের কারাগারে রয়েছেন। তাকে ধরতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল রেড ওয়ারেন্টও জারি করে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিউদ্দিন বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে নূর হোসেন সম্পর্কে জানান, নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু আমরা ঘটনার ৬মাসের মধ্যেই মামলার অনেকাংশ কাজ এগিয়ে নিয়েছিলাম। নূর হোসেনের জন্য অপেক্ষাও করা হয়েছিল। কিন্তু একজনের জন্য এতদিন অপেক্ষা করতে গেলে আরো বিলম্ব হতো। যেহেতু মামলাটি চাঞ্চল্যকর সেহেতু নূর হোসেনকে ছাড়াই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তবে নূর হোসেন দেশে ফিরে আসলে তার স্থান হবে কারাগারেই। সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব নিয়েই মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত নৃশংস সেভেন মার্ডারের ঘটনার ১১ মাস পর বুধবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মামুনুর রশিদ মনণ্ডল নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই চার্জশিট দাখিল করেন। এতে ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত ৩৫ জনের মধ্যে নূর হোসেনসহ ১৩ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। পলাতক এই ১৩জন হলেন- নূর হোসেন, তার সহযোগী ভারতে গ্রেফতার সেলিম, সানাউল্লাহ সানা, শাহজাহান ও জামাল উদ্দিন। পলাতক বাকি ৮জন র‌্যাব সদস্য। এরা হলেন- এএসআই কামাল হোসেন, সার্জেন্ট এনামুল কবির, কর্পোরাল লতিফুর রহমান, সৈনিক আবদুল আলী, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক আলামিন শরীফ, সৈনিক তাজুল ইসলাম ও কনস্টেবল হাবিবুর রহমান।

মামলায় অভিযুক্ত ৩৫ জনের মধ্যে ২২জন গ্রেফতার রয়েছেন। এই ২২জন হলেন- র‌্যাব-১১-এর চাকরিচ্যুত অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, উপঅধিনায়ক মেজর আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার এমএম রানা, ল্যান্সনায়েক বিল্লাল হোসেন, সাবেক এসআই পুর্ণেন্দু বালা, হাবিলদার ইমদাদুল হক, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন, সিপাহী আবু তৈয়ব, কনস্টেবল সিহাব উদ্দিন, রেডিও অপারেটর গেইন (আরওজি) আরিফ হোসেন, এএসআই বজলুর রহমান, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, হাবিলদার ও গাড়ি চালক নাসিরউদ্দিন, সিপাহি নুরুজ্জামান, বাবুল হাছান, সিপাহী সাবেক সেনা সদস্য আসাদুজ্জামান এবং  নূর হোসেনের প্রধান বডিগার্ড মর্তুজা জামান চার্চিল, প্রধান ক্যাশিয়ার আলী মোহাম্মদ, ক্যাশিয়ার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ প্রচার সম্পাদক আবুল বাশার এবং মাদক স্পট-জুয়া-অশ্লীল নৃত্য পরিচালনাকারী রহম আলী ও মিজানুর রহমান।

গত বছরের ১৪ জুন নূর হোসেন পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়ার পর এখনো আদালতে জামিনের প্রার্থনা করেননি। তবে তার দুই সঙ্গী খান সুমন এবং ওহিদুর জামান শামীম বারাসাতের জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। গত ২৯ ডিসেম্বর বারাসাতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম মধুমিতা রায় তিন আসামিকে আদালতে হাজির থাকার জন্য চূডান্ত সময় নির্ধারণ করেছিলেন। তবে গত ১৪ জুন নূর হোসেন দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার হলেও গত ১৮ আগস্ট ভারতীয় পুলিশ বিদেশি আইনসহ আরও  কয়েকটি ধারায় বেআইনি অনুপ্রবেশের দায়ে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রদান করে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/একে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়