News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৩৩, ৮ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০১:৩১, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

ঝড় আতঙ্কে কাঁচা-পাকা ধান কাটছেন কৃষকরা

ঝড় আতঙ্কে কাঁচা-পাকা ধান কাটছেন কৃষকরা

গাইবান্ধা: গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার হাসিলকান্দি গ্রামে চর জেগে ওঠায় হাসি মুখে আগাম জাতের বোরো ধান চাষ করেন কৃষকরা। ধান পাকতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ঘন ঘন কালবৈশাখীর ছোবল দুশ্চিন্তায় ফেলেছে তাদের। আতঙ্কের মধ্যে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কাঁচা-পাকা ধান কাটায়।

চর এলাকার কৃষকরা জানান, সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ে তাদের বোরো ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে চলতি মৌসুমে আগাম জাতের বোরো ধানের ফলন ভালো হলেও ঝড় ও শিলা বৃষ্টি আতঙ্কে ধান না পাকতেই ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের কৃষকরা ঝড়ের আতঙ্কে আগাম বোরো ধান কাটছেন। পাকা, আধা পাকা এমনকি কাঁচা ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। যেন ধান ঘরে তুলতে পারলেই বেঁচে যান তারা।

সাঘাটা উপজেলার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, “বর্গা নিয়ে চরের দুবিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি। ধানের বাম্পার ফলন হলেও শনিবার কালবৈশাখী ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেছে।”
 
রফিকুল বলেন, “পাঁচ থেকে সাত বছর আগে নদী আমার বাড়িঘর গ্রাস করেছে। যমুনা নদী আমাকে সর্বস্বান্ত করলেও এ বছর ওই স্থানে চর জেগে ওঠায় সেখানে আমি দুবিঘা জমিতে আগাম জাতের বোরো ধান চাষ করেছি। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়ের ভয়ে আগাম ধান কাটতে হচ্ছে।”

কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, “গত বছর যেখানে নদী ছিল, সেখানে এ বছর চর জেগে উঠেছে। চলতি বোরো মৌসুমে ওই জায়গায় বোরো আবাদ করেছি। নদী তার সবকিছু কেড়ে নিলেও এ বছর তার সেই পৈত্রিক সম্পত্তি জেগে উঠেছে।”

তিনি আরও জানান, “ফলন ভালো হয়েছে। তবে শিলা বৃষ্টি আতঙ্কে ধান ঘরে তুলতে বাধ্য হচ্ছি।”

সাঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মুবিনুজ্জামান চৌধুরী জানান, “চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১৪ হাজার আটশ ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে নদী বেষ্টিত এলাকায় সাতশ হেক্টর ও চরাঞ্চলে ৮০ হেক্টর। চরাঞ্চলের কৃষকরা অল্প পুঁজি খাটিয়ে চরের জমিতে নানা ফসল ফলিয়ে সুখের দিন কাটাচ্ছে। এ বছর চরাঞ্চলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় আগামী বছর আবাদের পরিধি আরও বাড়বে।”
 
 নিউজবাংলাদেশ.কম/কেজেএইচ

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়