ভাড়াভিত্তিক ৪ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধি
ঢাকা: চারটি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধিসহ ১১টি দর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার সচিবালয়ে ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
সচিব বলেন, “বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্ধিত মেয়াদের ট্যারিফও অনুমোদন করা হয়েছে। ‘এনার্জি প্রিমা লিমিটেড’ পরিচালিত ‘বগুড়া ২০ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক ভাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র’, কুমারগাঁও ৫০ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক ভাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র’ ও শাহজীবাজার ৫০ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক ভাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ তিন বছর এবং ‘ভেঞ্চার এনার্জি রিসোর্স লিমিটেড’ পরিচালিত ‘ভোলা ৩৪ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক ভাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ দুই বছর করে বাড়ানো হয়েছে।
এক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা হিসাবে এগুলোর বর্ধিত ট্যারিফ হচ্ছে যথাক্রমে ২ টাকা ৭১ পয়সা, ২ টাকা ৮৯ পয়সা, ২ টাকা ৯৮ পয়সা ও ৩ টাকা ৪৮ পয়সা।
অতিরিক্ত সচিব সাংবাদিকদের জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স হাল্লা-এমএএইচ-সিও কং জেভিসি’। এতে ব্যয় হবে ৫৭৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
এছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় সেতু ও সড়ক নির্মাণের চারটি ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের সেতু নির্মাণ কাজের প্যাকেজ নং বি-১-এর আওতায় ইলিয়টগঞ্জ সেতু (২৮ দশমিক ৬০ মিটার), কুমিল্লা রেলক্রসিংয়ের উপর ওভার-পাস (৩৪৪ দশমিক ১৭৫ মিটার), ফেনী রেলক্রসিংয়ের উপর ওভার-পাস (৮৬ দশমিক ৪৪২ মিটার) নির্মাণ চুক্তির ভেরিয়েশন অর্ডার-১-এর নির্মাণ ব্যয় কমে বর্তমান দাঁড়িয়েছে ২১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
সচিব জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ কাজের প্যাকেজ নং ৩-এর আওতায় কুমিল্লা বাইপাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ চুক্তির ভেরিয়েশন অর্ডার-১-এর নির্মাণ ব্যয় কমে বর্তমান ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৭১ কোটি ৪ লাখ টাকা। আগে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৮৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ কাজের প্যাকেজ নং ৬-এর আওতায় মহীপাল বাজার থেকে ধূমঘাট সেতু পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৯১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়ক নির্মাণ চুক্তির ভেরিয়েশন অর্ডার-১-এর নির্মাণ ব্যয় কমে বর্তমান ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৩৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৪৮ কোটি ৪ লাখ টাকা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ কাজের প্যাকেজ নং ৭-এর আওতায় ধূমঘাট থেকে মীরেরসরাই বাজার পর্যন্ত ১৫ দশমিক ৬৬৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ চুক্তির ভেরিয়েশন অর্ডার-২-এর নির্মাণ ব্যয় বেড়ে বর্তমান ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৬৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আগে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
এছাড়া ৩০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড (পিটুওফাইভ : ৫২.৪ ভাগ) আমদানির একটি দর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি টন ৪৭৬ দশমিক ৯০ ডলার হিসাবে এটি আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ১১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। দুটি প্যাকেজে এ কাজটি পেয়েছে মেসার্স প্রোটন ট্রেডিং ও দেশ ট্রেডিং লিমিটেড।
কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ জোনে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক নিয়োগে ব্যয় হবে ১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আর পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে ‘ফিচনার-ইউডিএস’।
নিউজবাংলাদেশ.কম/টিআইএস/এমএম
নিউজবাংলাদেশ.কম








