News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৫৭, ৮ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০১:৩১, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

অবৈধ যানের স্টিয়ারিংয়ে শিশু, অসহায় যাত্রীরা

অবৈধ যানের স্টিয়ারিংয়ে শিশু, অসহায় যাত্রীরা

লালমনিরহাট: জেলার মহাসড়কগুলোতে এখন অবাধে চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ লক্করঝক্কর যানবাহন। এসব যানবাহনের চালকদের বেশিরভাগই শিশু-কিশোর। তাদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স, নেই যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন। এ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা চলাচল করছে।   

কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন আঁকাবাঁকা সড়কে অবাধে চলছে নছিমন এবং মেশিনচালিত ভটভটিসহ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। কালীগঞ্জের কাকিনা ইউনিয়নের বছির মিয়ার পুত্র রুবেল (১২) নিউজবাংলাদেশকে বলে, “৩ চাকার ভটভটি তার এক ভাইয়ের। সুযোগ পেলেই আমি এটি ভাড়ায় নিয়ে আসি।”

সে আরো বলে, “প্রতি ট্রিপে ১০ জন যাত্রী বহন করি। এভাবে প্রতিদিন আয় হয় ৭শ’ থেকে ১ হাজার টাকা।”

জেলা সদরসহ ৪ উপজেলায় ঘুরে দেখা গেছে, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতিবান্ধা ও পাটগ্রামে যাত্রীবাহী অটোরিকশা, অবৈধ ইজিবাইক, মালবাহী টমটম, ভটভটি অধিকাংশেরই চালক শিশু-কিশোর।

এসব যানবাহনের বেশিরভাগেরই কোনো নিবন্ধন নেই। চালকের বয়সও ১৮ বছরের কম। তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। নেই কোনো প্রশিক্ষণ বা গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা।

অথচ তারা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক। এরই ফলে হরদম ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে ঘুরে দেখা গেছে, গাড়িগুলোর অধিকাংশ পুরনো, জরাজীর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ।

এসব যানবাহনের মধ্যে টমটমের বেপরোয়া গতি আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাঘাটও ভাঙাচোরা, এবড়োথেবড়ো। এ অবস্থায় জেলার লাখ লাখ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে এসব যানবাহনে।

এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি চলে ব্যাটারিচালিত অবৈধ ইজিবাইক। এছাড়া শ্যালোইঞ্জিন চালিত টমটম ও ভটভটি মালামাল আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। চলছে ছোট পিকআপ, স্কুটার। লক্কড়-ঝক্কর নছিমন তো আছেই।

১ লাখ ২০-২৫ হাজার টাকায় বর্তমানে ইজিবাইক পাওয়া যায়। ব্যাটারিচালিত রিচার্জেবল এসব গাড়ি সাধারণ মানুষদের কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আগে যারা রিকশা চালাত এখন তারা ইজিবাইকের চালক।

বেশিরভাগ চালকের বয়স ১২-১৬ বছর। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, পুলিশ তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ির নিবন্ধনের কাগজপত্র দেখতে চায় কি না। ৯০ ভাগ চালকের জবাব, একবারও তারা এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি।

লালমমনিরহাটের চন্দ্রপুর এলাকার অটোরিকশা চালক সোলেমান মিয়া (১৫) নিউজবাংলাদেশকে বলে, “বয়েস না অইলে লাইসেন চামু কেমনে। চাইলেই হেরা (কর্তৃপক্ষ) দিব?”

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার (এসপি) টিএম মোজাহেদুল ইসলাম নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ যন্ত্রযান ও শিশু-কিশোর চালক এবং বেপরোয়া গতির গাড়িগুলো আটক করা হচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, “নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ের কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এটিএস

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়