News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৭:২৪, ৮ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০১:৩২, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

উলফা নেতা মেজর রঞ্জনের যাবজ্জীবন

উলফা নেতা মেজর রঞ্জনের যাবজ্জীবন

কিশোরগঞ্জ: ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) শীর্ষনেতা মেজর রঞ্জন চৌধুরী ও তার সহযোগী প্রদীপ মারাককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের একটি আদালত। একইসঙ্গে আসামিদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বুধবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ মাহবুব-উল ইসলাম এ রায় প্রদান করেন।

রঞ্জন চৌধুরী ওরফে মেজর রঞ্জনের সাজার আদেশ হয়েছে অস্ত্র ও সন্ত্রাস দমন আইনের ২ মামলায়। আর তার সহকারী প্রদীপ মারাক অস্ত্র মামলায় খালাস পেয়েছেন। তবে তার সাজা হয়েছে সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায়।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, র‌্যাব-৯ ভৈরব ক্যাম্পের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) করিমুলাহ বাদী হয়ে উলফার শীর্ষনেতা মেজর রঞ্জন চৌধুরী ও তার সহযোগী প্রদীপ মারাকের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা দায়ের করেন। এ ৪টি মামলা ছিল, অস্ত্র, বিস্ফোরক, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাস দমন আইনে।

মামলার বিবরণে আরো জানা গেছে, একই আদালতে এর আগে দায়ের করা ৩ মামলায় সাক্ষ্য দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান। এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদেরকে হাজির করা হয় আদালতে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১৭ জুলাই ভোরে ভৈরব উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করে র‌্যাব-৯ এর একটি দল। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়, ২টি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, হাতবোমা তৈরির উপকরণসহ ৪টি বোমা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি।

আটকের পরপরই তাদের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাস দমন আইনে পৃথক ৪টি মামলা দায়ের করা হয়।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রঞ্জন ১৯৯৫ সালে ভারতে ১ বছর কারাভোগ শেষে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। উলফার সামরিক প্রধান পরেশ বড়ুয়ার নির্দেশ অনুযায়ী তিনি অবস্থান নেন শেরপুরের ঝিনাইগাতির গজনীতে। এখানে অবস্থান করেই ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি উলফার কার্যক্রম চালাতে থাকেন।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিক হিসেবে তার ব্যাপারে স্থানীয়দের সন্দেহ দূর করতে রঞ্জন ২০০১ সালে সাবিত্রী ভ্রুম নামের একজনকে বিয়ে করেন। বলা হয়, সেই বিয়েতে উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া ও শশধর চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, তার সহযোগী প্রদীপ মারাক একসময় শেরপুরের স্থানীয় একটি এনজিওতে চাকরি করতেন। এখানে থেকেই রঞ্জনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি উলফার সাংগঠনিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে শুরু করেন।


নিউজবাংলাদেশ.কম/এটিএস

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়