মরিশাসে বাংলাদেশি পোশাক শ্রমিকদের পিটিয়ে বহিষ্কার
মরিশাসে এক তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত বেশ কিছু বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিককে পিটিয়ে চাকরিচ্যুত করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। অবৈধ ধর্মঘটে অংশ নেয়ায় তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি।
মাওরুসিনি ডি টেক্সটাইল নামের ওই পোশাক কারখানার ৬৯ জন নারী শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় সেখানে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি শ্রমিক আতঙ্কে রয়েছেন।
ডেইলি মেইলের খবরে জানা যায়, তিনদিনের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ শেষে গত সোমবার বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের পুলিশ ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে ও টেনে হিঁচড়ে নারী শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়।
শ্রমিকরা কারখানাটিতে হুইসেল, টপশপ এবং নেক্সটের জন্য পোশাক তৈরি করত।
কারখানাটিতে ১৮০০ শ্রমিকের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি। তারা গত সপ্তাহ থেকে বেতন, চিকিৎসাভাতা, খাবারের দাবিতে ও সহকর্মী নিখোঁজ হওয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘটে যায়। উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ থেকে কারখানাটির এক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাংলাদেশি শ্রমিক ডেইলি মেইলকে জানায়, পুলিশ আমাদের ওপর চড়াও হয়ে লাঠিপেটা শুরু করে। এতে শ্রমিকরা ভয়ে চিৎকার শুরু করে এবং দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।
বহিষ্কারের আতঙ্কের কথা জানিয়ে ওই বাংলাদেশি নারী শ্রমিক জানান, চাকরি হারালে আমার পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কান্না সামলে নিয়ে তিনি কারখানার অভ্যন্তরে অপ্রকাশিত নির্যাতনের কথা জানিয়ে দেন। তিনি জানান, কর্মকর্তারা কর্ম-পরিবেশ সম্পর্কে পরিদর্শকদের মিথ্যা বলতে নির্দেশ দিতেন। নির্দেশ মানতে না চাইলে চাকরিচ্যুত করা হতো।
তিনি জানান, তাদের সকাল সাড়ে সাতটা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এভাবে খাটিয়ে প্রতিদিন অযৌক্তিক লক্ষ্যমাত্রায় পণ্য উৎপাদন করা হতো। কোনো ওভারটাইম দেয়া হতো না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ওই কারখানায় কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিক নাজমা আখতার গত ২৬ মার্চ চিকিৎসা করাতে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ধর্মঘটে যায় অন্য শ্রমিকরা।
কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিখোঁজ সহকর্মীর কোনো খবর না পেয়ে শ্রমিকরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে মঙ্গলবার থেকে তারা ধর্মঘটে যায়। এর একদিন পর, মন্ত্রণালয় ও কারখানা কর্তৃপক্ষ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার নিখোঁজ নাজমা আখতারের খোঁজ পাওয়ার পরও প্রায় ২০০ জন নারী শ্রমিক ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থান নেন। কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদী ধর্মঘটী শ্রমিকদের সামনে হাজির করে, তাদের কাজে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে দ্বীপটিতে বসবাসের খরচের চাইতে কম মজুরি পাওয়া শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ উপেক্ষা করে অনড় অবস্থানে গেলে পরিস্থিতি চরমের দিকে যায়।
হুইসেল এবং টপশপ এ ঘটনায় তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, নেক্সট কর্তৃপক্ষ কারখানাটি থেকে অর্ডার ফিরিয়ে নিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে/কেজেএইচ
নিউজবাংলাদেশ.কম








