News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৫৬, ৭ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৯:০৭, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

এক থানার আসামি, অন্য থানায় নির্যাতন

এক থানার আসামি, অন্য থানায় নির্যাতন

ঢাকা: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক থানার আসামিকে অন্য থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে খোদ পুলিশই।

এ ঘটনা তদন্তে পুলিশের একজন উপকমিশনারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় ওসি রফিকুল ইসলাম এমন সব অভিযোগ করে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন, যার সত্যতা নিউজবাংলাদেশ.কমকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট থানার ডিউটি অফিসার রাশেদ নোমান।

২৭ এপ্রিল বেলা ১২টায় রেকর্ড করা ওই সাধারণ ডায়েরিতে বলা হয়, উত্তরা পশ্চিম থানার ওসিকে না জানিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এসআই মমিনুল সিফাত আহমেদ রাব্বি (২৬) নামের এক আসামিকে উত্তরা পূর্ব থানার দ্বিতীয় তলায় নিয়ে নির্যাতন করতে সাহায্য করেন। যেটা ওই জোনের পুলিশের সহকারী কমিশনার সাঈদ ফেরদৌস রানার কার্যালয়।

ডায়েরিতে বলা হয়, নির্যাতনের এক পর্যায়ে আসামি সিফাত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পশ্চিম থানার তত্ত্বাবধানেই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী, ৩ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে গুলিবিদ্ধ হন সোবাহান খান নামের এক যুবক। এ ঘটনায় ৫ মার্চ ওই মামলার সন্দেহ ভাজন হিসেবে রাব্বিকে গ্রেফতার করে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ।

পুলিশ জানায়, তাকে আদালতে হাজির করলে বিচারক আসামি রাব্বীকে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়ে দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে রাব্বীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তরা পশ্চিম থানার কাছে তাকে হস্তান্তর করে কারা কর্তৃপক্ষ।

দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালত ৩০ মার্চ পুনরায় রাব্বীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে প্রতিবেদন আদালতের কাছে জমা দিতে নির্দেশনা দেন।

এ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ১ এপ্রিল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়, রোলার দিয়ে অতিরিক্ত মারধরের কারণে আসামির পায়ের নিচের অংশ ফুলে গিয়েছে। অথচ আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আগে সে পুরোপুরি সুস্থ ছিল।

এ প্রসঙ্গে জানতে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মঈনুল ইসলামের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাদেশ.কমকে বলেন, “সোমবার মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুনেছি, এ অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে, তবে আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত নই।”

এরপর ডিউটির কথা বলে ওই উপপরিদর্শক ফোন রেখে দেন।

তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত হতে ডিএমপি গণমাধ্যম শাখা পুলিশের উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার নির্দেশে ওই ঘটনা তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শেখ মারুফ হাসান সরদারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যেহেতু বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাই আগে থেকেই কোনো মন্তব্য করা উচিৎ হবে না।”

অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলে থানার ডিউটি অফিসারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হতে উত্তরা জোন পুলিশের সহকারী কমিশনার সাঈদ ফেরদৌস রানার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তদন্ত কমিটির অনুমতি ব্যতীত কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনএইচ/কেজেএইচ

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়