খুলনায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়
খুলনা: রোববার বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে খুলনায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা ২০ ঘণ্টায়ও স্বাভাবিক হয়নি। তবে তা স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগ এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।
রোববার দুপুরের পর ঝড়সহ মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়। ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির আগে দুপুর দেড়টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ঝড় থেমে গেলেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। রায়েরমহল এলাকায় ৩৩ হাজার ভোল্টের সঞ্চালন লাইনের খুঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে। শতাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে যায়। এ অবস্থায় পাইকগাছা ও খর্নিয়া সাব-স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।
খুলনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডুমুরিয়ার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মনোহর কুমার বিশ্বাস নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ঝড়ে ডুমুরিয়া এলাকায় কমপক্ষে ৭০টি স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়েছে। সেগুলো মেরামতের কাজ চলছে। গতকাল রাত দেড়টা পর্যন্ত কাজ করে ডুমুরিয়া, চুকনগর ও শাহপুর বাজারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা নাগাদ অবশিষ্ট কাজ শেষ করা হবে।”
খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শহীদুজ্জামান নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ঝড়ের কারণে বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রায়েরমহল এলাকার ৩৩ হাজার ভোল্টের সঞ্চালন লাইনের খুঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। সমস্যা দ্রুত নিরসনের চেষ্টা চলছে। আজ সন্ধ্যা নাগাদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে পারে।”
খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ আমিরুল আযাদ নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কালবৈশাখী মৌসুম শুরু হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থা আরো দু’একদিন থাকতে পারে।”
এদিকে ঝড়ো হাওয়ায় এ অঞ্চলের বোরোধানের ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কেটে রাখা বোরোধান পানিতে তলিযে গেছে। এছাড়া ফলন্ত ধানগাছ দুমড়ে-মুচড়ে ক্ষেতের সাথে সমান হয়ে গেছে। সবকিছু মিলিয়ে কৃষি ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আনিসুজ্জামান নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় উফতি বোরোধান, তিল, তরমুজ, আম ও সবজিসহ কৃষি পণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নিরূপন করা হচ্ছে।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/এটিএস
নিউজবাংলাদেশ.কম








