কালবৈশাখী তাণ্ডবে বগুড়ায় নিহত ১৬, সারাদেশে ২৮
ঢাকা: অকাল কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বগুড়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে সারাদেশে নিহতের সংখ্যা হলো ২৮।
এঘটনায় সারাদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহতের আরও আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম বগুড়া সংবাদদাতা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় জেলার সাতটি উপজেলার ওপর দিয়ে দিয়ে বয়ে যাওয়া ১২ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। এর মধ্যে দেয়াল এবং গাছের ডাল চাপায় ১৪ জন এবং নৌকা ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে কমপক্ষে ৫০ হাজার ঘরবাড়ি, লক্ষাধিক গাছপালা ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় শনিবার সন্ধ্যা ছটা থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত জেলার ১২টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসন থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার জন্য বরাদ্দ চেয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
জেলার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক পিপিএম তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ঝড়ে ঘর-বাড়ি হারিয়ে কয়েক হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।
এদিকে শহরের বহুতল ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এসব ভবনের বাসিন্দারা পানির সংকটে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। শহরের বনানী এলাকার ৩৩ কেভি জাতীয় গ্রিডের বৈদ্যুতিক পোল উপড়ে পড়ে গেছে। এছাড়া শহরের প্রতিটি এলাকার বিদ্যুৎ লাইনের তার ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে আছে।
সূত্র জানায়, বগুড়া সদরে ঝড়ের সময় ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে শহরের বউবাজার এলাকার হাজিরন বেগম (৩৫) ও ছমাস বয়সী শিশু নিলা,পালশার স্কুল ছাত্র পলাশ (১৮) ও রজব (১৫) নিহত হয়েছে।
ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে কাহালু উপজেলার হারলতা গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন(৪৫), আব্দুস সাত্তারের ছেলে আজিজুল হক (১৮), শাজাহানপুর উপজেলার রাধানগর গ্রামের আব্দুল মান্নান (৩২), ক্ষুদ্র ফুল কোর্ট গ্রামের পায়েল (১৫), নয় মাইলের রাবেয়া বেওয়া (৬৫), সোনাতলা উপজেলার ফিরোজা বেগম (৬০), সারিয়াকান্দি উপজেলায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে নারচি ইউনিয়নের বিল পাড়ার ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী শান্তা বেগম (৫৫) ও হাট ফুলবাড়ি গ্রামের চা দোকানি সুজন(৩০) নিহত হন।
এছাড়া ধারা বর্ষাচরের যমুনা নদীতে নৌকা ডুবে ওই এলাকার মোজাম মণ্ডল (৩৫) ও সোবাহান (৩৬) নামে দুজন মারা যান।
এছাড়া ধুনটে আফজাল হোসেন (৬০), গাবতলীতে সামিয়া বেগম (৩২) মারা গেছেন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক শফিকুর রেজা বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, “ঝড়ের সময় বিভিন্নভাবে জেলার সাত উপজেলায় ১৪ জন মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।”
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যার পর শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে। সার্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও ২-৩ দিন সময় লাগতে পারে।
এর আগে সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া অসময়ের কালবৈশাখী ঝড়ে শনিবার রাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। রাজধানীর সদরঘাটে ১, গুলিস্তানে ১, সিরাজগঞ্জে ৩, বগুড়ায় ১২, রাজশাহীতে ৪, পাবনায় ১, নওগাঁয় ১ ও নাটোরে ১ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত হয় প্রায় দুশতাধিক।
নিউজবাংলাদেশ.কম/কেজেএইচ
নিউজবাংলাদেশ.কম








