News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:০০, ৪ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৯:০৮, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

অসময়ের কালবৈশাখী

রাজশাহীর ৪ জেলায় নিহত ১৩, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

রাজশাহীর ৪ জেলায় নিহত ১৩, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ঢাকা: শনিবার বিকালের আধাঘণ্টার কালবৈশাখী ঝড়ে রাজশাহীর বাঘায় ২ নারীসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন।
বগুড়ায় ৬ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন দুশতাধিক। এছাড়া নাটোরে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে একজন, বিধ্বস্ত হয়েছে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি। নওগাঁর মান্দায় দেয়াল ধসে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছে। এসময় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, বিকাল ৪টা ৫৮মিনিটে শুরু হওয়া ঝড়ে বাঘার পাকুরিয়ায় ঘরচাপা পড়ে মৃত নজু মণ্ডলের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৬০) মারা যান। ওই সময়ে তিনি নিজ ঘরে শুয়েছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

একই সময়ে উপজেলার কিশোরপুরে মাটিচাপায় ইমাজউদ্দিন (৪৫) নামে এক মাঝির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সময়ে তিনি নদীর পাড়ে নৌকায় বসেছিলেন। এসময় পাড় ভেঙ্গে তার ওপর পড়লে তিনি চাপা পড়েন।

অপরদিকে, জেলার পবার বড়গাছি গ্রামের আবুলের ছেলে হাকিম (৪০) এবং গোদাগাড়ী উপজেলার চরআশারিয়া গ্রামের মৃত খালেকের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৬৫) মারা যান ঝড়ে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মেজবাহউদ্দিন চৌধুরী নিউজবাংলাদশেকে জানান, নিহতদের পরিবার পিছু ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

রাজশাহী-বগুড়া ছাড়াও কালবৈশাখীর তাণ্ডবে  চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরে আমের ফলনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের তার। গাছ ভেঙে পড়ে রাস্তাও বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু এলাকায়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও (রাবি) ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত অর্ধশতাধিক গাছ ভেঙে গেছে। রাত পৌনে ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ধ্বংসস্তুপ সরানোর কাজ করছিলেন।  

নাটোর সংবাদদাতা জানান, জেলায় ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে দেড় শতাধিক কাঁচা-বাড়ি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলের। গাছপালা এবং বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় জেলায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। এদিকে, জেলার গুরুদাসপুরের খুবজিপুরে বজ্রপাতে খোকন হোসেন নামে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহত খোকন চরপিললা গ্রামের মকের আলীর ছেলে।

সন্ধ্যা ৬টায় ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর, পাকা,বাগাতিপাড়া সদরসহ বেশ কটি ইউনিয়ন এবং নলডাঙ্গা উপজেলার সোনাপাতিল, তেঘরিয়া, পাটুল বাশিলা, হালতিসহ ২০টি গ্রামের দেড় শতাধিক কাঁচা বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি আম, লিচুসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের প্রচণ্ড তাণ্ডবে দেড় শতাধিক কাঁচা বাড়িঘর বিধ্বস্ত এবং অনেক বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে।

গাছপালা এবং বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। এছাড়া সিংড়া ও লালপুরে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

নওগাঁর মান্দায় দেয়াল ধসে শাহনাজ বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এসময় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মান্দা স্বস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত শাহনাজ উপজেলার মহানগর গ্রামের বাসিন্দা। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।  

মান্দা থানা ওসি মোজাফ্ফর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে, জেলার সদর, আত্রাই, রানীনগর, বদলগাছী, পোরশা, সাপাহার, নিয়মতপুর, মান্দাসহ আশেপাপাশের এলাকার শত শত বাড়িঘরের চাল উড়ে গেছে। এসব এলাকার হাজার হাজার গাছপালা ও ফসলের ব্যবপক ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক এই ঝড়ে এসব এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রাত ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
 
স্থানীয়রা জানান, বিকেল সাড়ে ৫ টা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঝড়ের উৎপত্তি হয়। এটির স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ৩০ মিনিট।

বগুড়ায় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া অসময়ের কালবৈশাখী ঝড়ে ৬ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন দুশতাধিক।

বগুড়া সদরের বৌবাজার এলাকায় হাজিরন (৩৮) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয় দেয়াল ধসে। এছাড়াও জেলার শাজাহানপুর উপজেলার রাধানগর মাঠপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে ছান্না (৩৩) ও ঘাসিরা গ্রামের মৃত আরতাফের স্ত্রী রহিমন (৭০) নিহত হয়েছেন। সারিয়াকান্দিতে সুবল চন্দ্র (৪০), সুজন মিয়া(৩৮), শান্তা বেগম (৩২) নামে নিহত হয়েছেন। 

জেলায় প্রায় ৫ সহস্রাধিক পরিবারের ঘড়বাড়ির চাল উড়ে গেছে এবং হাজার হাজার গাছপালা শেকড় সহ উপড়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে গোটা জেলার বিদ্যুৎ সংযোগ।

অপরদিকে, জেলার ধূনট উপজেলার চরশিমুল গ্রামের আফজাল হোসেন ঝড়ের তোড়ে ছুটে যাওয়া দরোজার আঘাতে নিহত হয়েছেন।

আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, বিকেল ৫ টা ৫৫ মিনিটে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৯৬ কিলোমিটার বেগে ঘূর্নিঝড় আঘাত হানে। একটানা প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে গোটা জেলা। বন্ধ হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে গাছ কেটে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/একে/কেজেএইচ

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়