লাঙ্গলবন্দ দুর্ঘটনা রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার ফল: ড. মিজান
ঢাকা: নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দের দুর্ঘটনা দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার ফল বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।
বৃহস্পতিবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) কার্যালয়ে ‘লাঙ্গলবন্দ পুণ্যস্নান এলাকার পরিবেশ, দুর্ঘটনার দায় ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ড. মিজান বলেন, “অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নদী দখল করে পুণ্যস্নানের জায়গা সীমিতকরণ, সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দুর্বলতাসহ নানা কারণে লাঙ্গলবন্দের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব স্নানোৎসবে পদদলিত হয়ে ২৭ মার্চ ২০১৫ তারিখে লাঙ্গলবন্দে ১০ জন মানুষ মারা যায়। পবার একটি প্রতিনিধি দল লাঙ্গলবন্দের দুর্ঘটনাস্থলসহ সবগুলো স্নানঘাট ৩১ মার্চ ২০১৫ তারিখে সরেজমিন পরিদর্শন এবং পরিবেশগত দিক পর্যবেক্ষণ করে।
পবার পক্ষ থেকে সভায় এ সংক্রান্ত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পবার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান।
আবদুস সোবহান তার পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণপত্র উপস্থাপনায় বলেছেন,“বিশাল সংখ্যক পুণ্যার্থীর ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলা এবং পরিবেশগত সংকটাপন্ন অবস্থার জন্য লাঙ্গলবন্দ পূণ্য স্নানের দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে আর না ঘটে তার জন্য পরিবেশগত সংকট দূর করে ব্যবস্থাপনাগত অবস্থার উন্নতি করতে হবে।”
ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আইন কমিশন সদস্য প্রফেসর ড. এম শাহ আলম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি কাজল দেবনাথ, পবার নির্বাহী সদস্য ইঞ্জিনিয়ার তোফায়েল আহমেদ, বিসিএইচআরডির নির্বাহী পরিচালক মো. মাহবুল হক প্রমুখ।
পবা তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে,“নদী দখল ও ভরাট করে স্থাপনা-ইমারত নির্মাণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। বাজার এবং আশপাশের এলাকার বাসা-বাড়ির কঠিন বর্জ্য ও পয়ঃ বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে নদীতে ফেলা হচ্ছে। আশপাশের এলাকার শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য বিভিন্ন খালের মাধ্যমে নদীতে ফেলা হচ্ছে। অগভীর হওয়ায় এবং কচুরিপানা দ্বারা পরিপূর্ণ থাকায় নদী সমূহ নৌ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পুণ্যার্থীদের নৌপথে লাঙ্গলবন্দ আসার কোনো সুযোগ নেই। পুণ্যার্থীদের শুধু সড়ক পথে লাঙ্গলবন্দ আসা সম্ভব। পুণ্যার্থীরা এক দিক থেকে আসার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিকটবর্তী ঘাটগুলোতে তাদের ভিড় অনেক বেশি।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/টিআইএস/কেজেএইচ
নিউজবাংলাদেশ.কম








