সাহসী জঙ্গিদের সঙ্গী আগ্নেয়াস্ত্র, অন্যদের চাপাতি
ঢাকা: যে কোনও মিশনের আগে তুলনামূলক বেশি সাহসী জঙ্গিদের আগ্নেয়াস্ত্র দেয়া হয়। এছাড়া অন্যদের কাছে চাপাতি থাকে। মানুষ হত্যার জন্য এরা প্রত্যেকেই প্রশিক্ষণ নেয়। বুধবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মূখপাত্র ও ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এতথ্য জানান।
তিনি জানান, ঘটনার দশদিন আগে থেকে জঙ্গিরা ব্লগার ওয়াশিকুরকে হত্যার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এরপর সাহস বাড়ানোর জন্য চাপাতি নিয়ে পাঁচদিন তারা রাস্তায় চলাফেরা করে। যাতে মূল কাজের সময়ে তাদের সহজে কেউ ধরতে না পারে।
আশিক হত্যাকারীদের প্রসঙ্গে মনিরুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তথ্য দিতে শুরু করেছে। তারা দুজনই হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্র। এদের মধ্যে আরিফ ২০১২ সালে নরসিংদীর রায়পুরে গ্রেফতার হয়েছিলো। সে একটি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। আদালত থেকে সে জামিনে ছিলো। ওই সময় আরিফ জেএমবির সক্রিয় সদস্য ছিলো। বর্তমানে সে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের হয়ে কাজ করছে।”
হত্যাকাণ্ডের সমন্ময়কের দায়িত্বে থাকা মাসুম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাসুম তার সত্যিকারের নাম, নাকি কৌশলগত কারণে মাসুম বলেছে তাও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
স্লিপার সেল প্রসঙ্গে ডিবির এ যুগ্ম কমিশনার বলেন, “মতের বিরোধীদের হত্যা করতে দেশে দুই থেকে তিনটি ‘স্লিপার সেল’ কাজ করছে। এর আগে দুইটি সেলের সদস্যরা ধরা পড়েছিলো। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যার সময় জনগণের সহায়তায় আরো একটি ‘স্লিপার সেলের’ সদস্যরা ধরা পড়েছে। এরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য।”
মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, “যিকির ও আরিফ যাত্রাবাড়ীতে থাকতো। সেখানে জসীম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির ভক্ত ও অনুসারী তারা দুজনেই। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জসীম উদ্দিন তাদের নির্দেশনা দিতো।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন বেগুনবাড়ি এলাকার ঢালে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করে তিন জঙ্গী। পরে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন হিজরা ও স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে তাদের মধ্য থেকে জিকির ও আরিফ নামে দুজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনএইচ/একে
নিউজবাংলাদেশ.কম








