News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:২০, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
আপডেট: ১২:২২, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

কেরানীগঞ্জে মাদরাসার আড়ালে বোমার কারখানা, মূল হোতার সন্ধানে পুলিশ

কেরানীগঞ্জে মাদরাসার আড়ালে বোমার কারখানা, মূল হোতার সন্ধানে পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদরাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনায় দুই শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন এবং পুলিশ এখন পর্যন্ত তিন নারীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, অনাথ শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল ভয়ংকর এক নাশকতার আস্তানা ও বোমার কারখানা। 

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে হাসনাবাদ হাউজিং এলাকার ‘উম্মুল ক্বুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা’ ভবনে বিকট শব্দে এই বিস্ফোরণ ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে, যা অনেকটা ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়।

বিস্ফোরণে একতলা মাদরাসা ভবনটির পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। ছাদ ও সিঁড়ির একাংশ উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবনের পিলার ও বিমে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। এমনকি পাশের একটি ভবনের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিকটস্থ একটি অটোরিকশা গ্যারেজের টিনের চাল উড়ে গেছে। শুক্রবার মাদরাসা বন্ধ থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এবং অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। 

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ও এসিটোন, চারটি ককটেল সদৃশ তাজা বস্তু, বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, একটি ল্যাপটপ ও দুটি মনিটর।

আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে মাদরাসায় বিস্ফোরণের রহস্য উদ্ধার

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদরাসার আড়ালে এখানে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমা তৈরি করে বাইরে সরবরাহ করা হতো।

এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন পলাতক মূল অভিযুক্ত শেখ আল আমিনের স্ত্রী আছিয়া (২৮), আছিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (৩০), সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত আসমানি খাতুন ওরফে আসমা (৩৪)।

ঘটনার মূল হোতা ও মাদরাসার পরিচালক শেখ আল আমিন বিস্ফোরণের পরপরই পালিয়ে যান। 

পুলিশ জানায়, আল আমিন নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন জেএমবি-এর সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও আশপাশের থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। এর আগে ২০১৭ ও ২০২০ সালেও তিনি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন।

বিস্ফোরণে আল আমিনের দুই ছেলে (১০ ও ৭ বছর বয়সী) গুরুতর আহত হয়েছে। তারা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া আল আমিনের স্ত্রী আছিয়াও এই ঘটনায় আহত হন।

ভবন মালিক পারভীন বেগম জানান, ২০২২ সালে মুফতি হারুন অর রশীদ নামে এক ব্যক্তি মাদরাসা করার জন্য ভবনটি ভাড়া নেন। পরে হারুন তার শ্যালক আল আমিনকে দায়িত্ব দেন। 

পারভীন বেগম বলেন, আমি নিয়মিত খোঁজ নিতাম, কিন্তু মাদ্রাসার আড়ালে যে এমন ভয়ানক কাজ চলছিল, তা কল্পনাও করতে পারিনি।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া চলছে। 

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে কোনো ধরনের নাশকতা বরদাশত করা হবে না। পলাতক আল আমিনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়