মূল্যস্ফীতির সূচক ঊর্ধ্বমুখী, বাড়বে পণ্যমূল্য
ঢাকা: দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মূল্য বেড়েছে, কমেছে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্য। তবে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি শহরাঞ্চলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্রামে। মূল্যস্ফীতি সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে চিহ্নিত করেছে সরকার। এর ফলে পণ্যমূল্য কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মঙ্গলবার শের-ই-বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মূল্যস্ফীতির সার্বিক তথ্য জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। আর পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা গেছে, নয় মাস স্থিতিশীল থাকার পর মূল্যস্ফীতি সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
তিনি বলেন, “মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার পয়েন্ট টু পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। যা আগের মাসের তুলনায় দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। আর খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি মাসিক ভিত্তিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশে, যা তার আগের মাসের তুলনায় দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। ফেব্রুয়ারি মাসে এ সূচক ছিল ৬ দশমিক ১১ শতাংশ।”
সূচক বাড়ার কারণ হিসেবে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, “রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতি হওয়ায় মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। অন্যদিকে গত ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৩ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময় ছিল ৪০ শতাংশ।”
গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার পয়েন্ট টু পয়েন্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।
অন্যদিকে, শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার পয়েন্ট টু পয়েন্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।
এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবিএম মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, “গত মাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতির যে ঊর্ধগতি এ পরিস্থিতিতে বাড়াটা অপ্রত্যাশিত না। যতটুকু বেড়েছে তা খুব একটা অতিমাত্রায় না। এনিয়ে খুব বেশি হতাশ হওয়ার কারণ নেই।”
বর্তমানে বিশ্ব বাজারের প্রায় সব পণ্যের দাম কমতির দিকে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “সেই প্রভাব আমাদের দেশে পড়বে। পাশ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়াতে চালের দাম কমেছে সে জন্য আমাদরে বাজারেও চালের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার সমস্যা কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নাই।”
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “চলতি বাজেটের দ্বিতীয় প্রান্তিকের সামষ্টিক অর্থনীতির একটা স্থিতিশীলতা আছে। তবে যে টার্গেট আছে, সে তুলনায় কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না। বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে বিনিয়োগের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রা পাচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “আর মূল্যস্ফীতির বিষয়ে মনে করি, চলমান অস্থিরতায় সাপ্লাই চেইনে সমস্যা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসার ব্যয় বেড়েছে, এটা সত্য। এর কারণে হয়তো ভোক্তার পণ্যের উপর কিছু চাপ হতে পারে।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/জেএস/এমএম
নিউজবাংলাদেশ.কম








