অপ্রদর্শিত অর্থের বিষয়ে প্রশ্ন না করার প্রস্তাব
ঢাকা: বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ কোনো প্রশ্ন ছাড়াই গৃহায়ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসেয়শন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।
এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও ৯টি লিখিত প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডর (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষ্যে মাসব্যাপী প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এ প্রস্তাগুলো তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি আলগীর শামসুল আলামিন। অপ্রদশিত অর্থ বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ১৯ বিবিবিবিবি-তে একটি নতুন বিধান সংযোজন করার প্রস্তাব করেছে সংগঠটি।
বাংলাদেশের গৃহায়ন শিল্প রক্ষায় এ প্রস্তাব করা হয়েছে বলে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানকে জানান রিহ্যাব সভাপতি।
বাজেটের প্রাক আলোচনায় এনবিআর চেয়রম্যানের সভাপতিত্বে রাজস্বের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (শুল্ক, মূসক (ভ্যাট) ও আয়কর) বিষয়ে পৃথক,পৃথক আলোচনা করেন দেশের ৫৫টি ব্যবসায়ীক সংগঠন।
দ্বিতীয় দিনে নির্মাণ খাতের ইট,বালু, সিমেন্ট, লোহা, স্যানিটারি ও হার্ডওয়্যার, রিহ্যাব, ওষুধ, রবার ও প্লাস্টিকের (১৭টি সংগঠন), বাংলাদেশ অটো ব্রিক্স ম্যানু: অ্যাসাসিয়েশনের (৪টি), ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প (১৪টি) এবং ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ ২০টিসহ মোট ৫৫টি সংগঠনের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক অথবা প্রতিনিধি নিজ সংগঠনের পক্ষে প্রস্তাব ও যুক্তি তুলে ধরেন।
সভায় সংস্থার বিভিন্ন অণুবিভাগের সদস্য, বাজেট প্রণয়ন কমিটির সদস্য, ট্যারিফ কমিশন ও বিএসটিআইয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রিহ্যাব সভাপতি শামসুল আলামিন বলেন, “বিগত কয়েক বছর রিয়েল এস্টেট ব্যবসা অত্যন্ত মন্দার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গৃহায়ন শিল্প চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পতিত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় বাজেট ২০১৫-১৬ বাংলাদেশের গৃহায়ন শিল্প রক্ষায় রিহ্যাব ১০টি সুপারিশ করছে। রিহ্যাবের প্রিস্তাব জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনায় সংযুক্ত করার হলে আবাসন শিল্পকে রক্ষাথে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে বলে রিহ্যাব বিশ্বাস করে।
রিহ্যাবের প্রস্তাব:
জাতীয় রাজস্ব বোডের আওতাধীন রেজিস্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট করা যথাক্রমে গেইন ট্যাক্স ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ, ষ্ট্যাম্প ফি ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.৫ শতাংশ ও মূল্য সংযোজন কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা।
বৈধভাবে উপর্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ কোনো প্রশ্ন ছাড়াই ভবন বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগের অর্থাৎ ইনডেমিনিটির সুযোগ রেখে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ১৯ বিবিবিবিবি-তে একটি নতুন বিধান সংযোজন করা।
গৃহায়ন শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য প্রযোজ্য আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ৫৩ এফএফ ধারায় বণিত পরিমান অধেকে হ্রাসকরণ এবং আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৮২ সি (৪) মোতাবেক ডেভেলপারের প্রদত্ত আয়কর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে কার্যকর করা।
রাজউক ও সিডিএর আওতাভুক্ত ও বহির্ভূত এলাকায় সকল জাতির ক্ষেত্রে আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩এইচ ধারায় প্রযোজ্য ৪ শাতাংশ ও ৩ শতাংশ করের স্থলে যথাক্রমে ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ কর নির্ধারণ।
বিনা শুল্কে ভবনের অগ্নি-নিরাপত্তার জন্য অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল প্রকার যন্ত্রপাতি আমদানীকরণ; সাপ্লায়ার ভ্যাট ও উৎস কর সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে ডেভেলপারকে অব্যাহতি;
বিকেন্দ্রীকরণ নগরায়ণ ও পারিপাশ্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে টেক্স হলিডের মাধ্যমে উৎসাহিত করণ; গৃহায়ন শিল্পে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য রেজি: ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা প্রদান।
লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিজাইন (লিড) সাটিফাইড ভবনের জন্য আয়কর রেয়াত প্রদান এবং ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক হ্রাস।
নিউজবাংলাদেশ.কম/জেএস/এটিএস/এজে
নিউজবাংলাদেশ.কম








