বকেয়া আয়করের শীর্ষে নায়করাজ রাজ্জাক
ঢাকা: দেশীয় চলচ্চিত্র জগতের নায়ক-নায়িকাদের পেছনে ফেলে বকেয়া কর তালিকায় এগিয়ে আছেন নায়করাজ রাজ্জাক। অভিনেতা রাজ্জাকের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ২৬৫১০০০২১। তার বিরুদ্ধে প্রায় এক কোটি ২৯ লাখ টাকার বকেয়া আয়করের অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বকেয়া আদায়ে কয়েক ধফায় কর্তৃপক্ষ নায়ক রাজ্জাককে নোটিশ করলেও এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলেও এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে রূপালী পর্দার সব নায়ক-নায়িকাকে পেছনে ফেলে সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। আর মৌসুমী সর্বোচ্চ সম্পদের মালিক হলেও সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে আছেন অভিনেতা মাহফুজ আহমেদের নাম। সম্প্রতি তারকাদের দাখিল করা ২০১৩-১৪ কর বর্ষের আয়কর নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে বলে জানিয়েছেন এনবিআর।
এছাড়া ২০১৩-১৪ করবর্ষে নায়ক রাজ্জাক তার সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছে ৬২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এ সময় তার আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা, যার বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ৯ হাজার ৭০০ টাকা।
এ বিষয়ে নায়করাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার নিকট আত্মিয় জানান, তিনি অসুস্থ, তাই কথা বলা যাবে না।
এ বিষয়ে এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, বকেয়া কর আদায়ে বিধি মোতাবেক নায়ক রাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এনবিআর সূত্র জানায়, ১৯৮৮-৯৯ থেকে ২০০৬-০৭ কর বর্ষ পর্যন্ত নায়করাজ রাজ্জাকের বকেয়া কর রয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অথচ দুই দফায় ৫০ হাজার করে মাত্র এক লাখ টাকা বকেয়া কর পরিশোধ করেছেন তিনি। ১৯৮৮-৮৯ কর বর্ষে রাজ্জাকের বকেয়া কর ছিল ৩৩ হাজার টাকা, ১৯৯০-৯১ কর বর্ষে ২৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, ১৯৯৪-৯৫ কর বর্ষে ২ লাখ ৬১ হাজার টাকা, ১৯৯৬-৯৭ কর বর্ষে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ১৯৯৭-৯৮ কর বর্ষে ৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, ১৯৯৮-৯৯ কর বর্ষে ৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ও ১৯৯৯-২০০০ কর বর্ষে ১২ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২০০০-০১ কর বর্ষে ৩০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, ২০০১-০২ কর বর্ষে ২৭ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, ২০০২-০৩ কর বর্ষে ১৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা, ২০০৩-০৪ কর বর্ষে ২ লাখ ২২ হাজার টাকা, ২০০৪-০৫ কর বর্ষে ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা, ২০০৫-০৬ কর বর্ষে ২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং ২০০৬-০৭ কর বর্ষে ২৪৪ টাকা কর বকেয়া ছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ‘চলচ্চিত্র জগতের অন্যান্য তারকার চাইতে রাজ্জাকের বকেয়া করের পরিমাণ বেশি। তাকে অনুসরণ করে যেখানে অন্য সব তারকার শেখার কথা, তখন তিনি নিজেই ঠিক মতো কর পরিশোধ করছেন না। সম্মানিত ব্যক্তি হওয়ায় রাজ্জাককে বারবার নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তিনি কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। উল্টো কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ সব বকেয়া কর আদায়ে একাধিকবার তার ব্যাংক হিসাব তল্লাশী করা হয়। কিন্তু তার নামে কোনো ব্যাংক হিসাবের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/জেএস/এএইচকে
নিউজবাংলাদেশ.কম








