সত্য নামের আড়ালে মিথ্যের বেসাতি
ভারতের কর্পোরেট ইতিহাসে নজিরবিহীন কারচুপির ঘটনায় সত্যম কম্পিউটার্সের প্রতিষ্ঠাতা রামালিঙ্গা রাজুসহ দশ জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। প্রায় ১৪ হাজার কোটি রুপি জালিয়াতির অভিযোগ সত্যম কম্পিউটার্স কারচুপির মামলায় বৃহস্পতিবার এই সাজা দেওয়া হয়। বিবিসি।
ষড়যন্ত্রমূলক অপরাধ, বিশ্বাস ভঙ্গ এবং জালিয়াতির অপরাধে হায়দরাবাদের একটি বিশেষ আদালতে বিচারক বিভিএলএন চক্রবর্তী এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। মামলায় অভিযুক্ত রামালিঙ্গ রাজু, তার ভাই প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি রামা রাজুসহ ১০ জনের প্রত্যেককেই সাত বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক। রাজু ভ্রাতৃদ্বয়কে সাড়ে ৫ কোটি রুপি জরিমানা করা হয়। অভিযুক্ত অন্য আটজনকে জনপ্রতি ৫০ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়। রাজু ভ্রাতৃদ্বয় ছাড়া অভিযুক্ত অন্য আটজন হলেন— সাবেক সত্যম কম্পিউটার্সের প্রধান অর্থ নির্বাহী শ্রীনিবাস ভেদলামানি, এস গোপালকৃষ্ণান এবং টি শ্রীনিবাস (অংশীদার প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্স), বি সূর্যনারায়ণ রাজু এবং সত্যম কম্পিউটার্সের সাবেক অভ্যন্তরীণ হিসাব কর্মকর্তা প্রভাকর গুপ্ত, অর্থ বিভাগের সাবেক প্রধান জি রামাকৃষ্ণ, ডি লক্ষ্মীপতি এবং ভেঙ্কটপতি রাজু।
সিআইডির তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মকর্তা- কর্মচারী সংখ্যা ৪০ হাজার হলেও আর্থিক প্রতিবেদনে রাজু দেখিয়েছেন ৫৩ হাজার। প্রতি মাসে এ কাল্পনিক ১৩ হাজার কর্মকর্তা- কর্মচারীর বেতন বাবদ রাজু উত্তোলন করেছেন প্রায় ২০ কোটি রুপি।
হায়দ্রাবাদের সত্যমের এই জালিয়াতির ঘটনাকে অনেকেই ‘ভারতের এনরন’ বলে তুলনা করেন। দেশের চতুর্থ বৃহত্তম কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৯ সালে প্রথম ভারতীয় আইটি কোম্পানি হিসেবে ন্যাসড্যাকে তালিকাভুক্ত হয় সত্যম। পরের বছরই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সেরা একশোটি কোম্পানি হিসেবে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের স্বীকৃতি পায়। ২০০৩ থেকে সত্যম বিশ্ব ব্যাঙ্কের আইটি প্রোভাইডার হিসেবেও কাজ করতে শুরু করে। সত্যম কম্পিউটার্সের কারচুপির ঘটনা ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে সামনে আসে। এতে প্রচণ্ড ধাক্কা খায় সারা দুনিয়ার করপোরেট জগত্। ধস নামে ভারতের আইটি জগতে।
এঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন বছর জেলে থাকার পর ২০১১ থেকে জামিনে মুক্ত ছিলেন রাজু। তবে, হায়দ্রাবাদের আদালত গতকাল কারাদণ্ড দিয়ে রায় দেওয়ার পর তাকে আবার স্থানীয় একটি কারাগারে আটক করা হয়েছে।
কোম্পানির মুনাফার অঙ্ক এবং সম্পদের পরিমাণ যে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানোর কথা স্বীকার করে শেয়াহোল্ডারদের প্রতি খোলা চিঠি লিখে অপরাধের দায় মেনে নেন রাজু।
এ জালিয়াতির সময় সত্যম কম্পিউটার্সের অডিটের দায়িত্বে ছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্স। অডিটের মান বিনষ্ট এবং কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গের অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির ভারতীয় শাখাকে ৬০ লাখ ডলার জরিমানা করে আমেরিকান সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের নিক ডিওগান এ ঘটনায় "সত্যম" শব্দের সংস্কৃত অর্থ সত্য জানিয়ে বলেন, সেই নামের আড়ালে আসলে মিথ্যের বেসাতি চালানো হচ্ছিল। রাজুর স্বীকারোক্তির জের ধরে তিনি আরো বলেন, রাজু এমন একটা বাঘের পিঠে সওয়ার হয়েছিলেন যে সেই বাঘের পেটে না-গিয়ে কীভাবে নামবেন তা আর বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় আইটি কোম্পানি ইনফোসিসের সাবেক ডিরেক্টর ভি বালাকৃষ্ণন রায়কে স্বাগত জানিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে
নিউজবাংলাদেশ.কম








