News Bangladesh

স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫৭, ২৯ জুন ২০২৫

বোর্ডের আচরণে ক্ষুব্ধ, সরে দাঁড়ালেন শান্ত

বোর্ডের আচরণে ক্ষুব্ধ, সরে দাঁড়ালেন শান্ত

ছবি: সংগৃহীত

নাজমুল হোসেন শান্তের টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা এবং ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন এক নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরে যেসব বিতর্ক ও সমালোচনা ছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এ ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের গত দশকের প্রায় সাড়ে দশ বছর ধরে বিসিবি সভাপতির পদে ছিলেন নাজমুল হাসান পাপন। তার সময়ে দলীয় নেতৃত্ব এবং একাদশ নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন নাটক ও বিতর্ক ঘটেছে। পরবর্তী সভাপতি ফারুক আহমেদ দায়িত্ব নেয়ার পরও এ ধরণের সমালোচনা থামেনি। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি আমিনুল ইসলাম বুলবুল দায়িত্ব নেওয়ার পরেও ক্রিকেটের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নানা সমস্যা অব্যাহত থাকে।

২০২৫ সালের জুনে এসে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন বিসিবি নাজমুল হোসেন শান্তকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব তুলে দেন মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে। এই পদক্ষেপে শান্তের সঙ্গে কোনও পূর্ব আলোচনা বা তথ্য যোগাযোগ ছিল না, যা তাকে ‘অপমানজনক’ মনে হয়েছে। 

এ কারণে শনিবার (২৮ জুন) কলম্বো সংবাদ সম্মেলনে টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন শান্ত।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা

শান্ত স্পষ্ট করে জানান, তার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত নয়, বরং দলের ভালোর জন্য নেয়া হয়েছে। তিনি তিন ফরম্যাটে তিনজন অধিনায়ক থাকার কৌশল দলের জন্য সমস্যাজনক মনে করেন। টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকে গত বছর নিজে থেকেই সরে আসেন, কারণ ব্যাটিং উন্নয়নে মনোযোগ দিতে চেয়েছিলেন।

শান্তের শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট দলের প্রথম ১০ জনের ফ্লাইটের মধ্যে তারও টিকিট ছিল, কিন্তু তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য পরের দিনের ফ্লাইট নেন। টেস্ট অধিনায়কত্ব নবায়ন পেয়ে কিছুটা সন্তুষ্ট ছিলেন তিনি, তবে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে আকস্মিক সরানো তাকে মানসিকভাবে আঘাত দিয়েছে।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, অধিনায়কত্ব পরিবর্তন বোর্ডের সমন্বিত সিদ্ধান্ত ছিল এবং তিন ফরম্যাটে আলাদা আলাদা অধিনায়ক রাখাই পরিকল্পনার অংশ। তিনি দাবি করেছেন, বোর্ডের পক্ষ থেকে শান্তকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল এবং শান্ত তা গ্রহণ করেছেন।

তবে অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, শান্তের সঙ্গে কোনও আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নয়, একতরফাভাবে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তাকে অপমানজনক মনে হয়েছে। এর ফলে বোর্ডের স্বচ্ছতা এবং ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

নাজমুল হোসেন শান্ত ১৪টি টেস্টে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেখানে তিনি চার জয় পেয়েছেন এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে পরবর্তী অধিনায়ক নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। দেশের আগামী টেস্ট সিরিজটি আয়ারল্যান্ড সফরের আগে নয়, তাই নভেম্বরের আগে নতুন অধিনায়ক বাছাই হবে না বলে জানা গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়