অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল, প্রতিক্রিয়া শায়খ আহমাদুল্লাহর
ছবি: সংগৃহীত
ইহুদি বিদ্বেষী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এর আগে একই অভিযোগে মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসাও বাতিল করা হয়েছিল।
স্থানীয় সময় রবিবার (০৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
অস্ট্রেলীয় প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’ এবং ‘দ্য সানডে টেলিগ্রাফ’ শায়খ আহমাদুল্লাহর দেশত্যাগের পর এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পোস্ট প্রকাশ করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তিনি জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণে তিনি গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সফর শেষে গত শনিবার দেশে ফিরে নিজ নিয়মিত কাজে যোগ দেন। এরপর সকালে তিনি জানতে পারেন, অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, গত বছরও তিনি সিডনিতে একই ধরনের বাংলাদেশি কমিউনিটির অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
ভিসা বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে প্রেরিত চিঠিটি ছিল ফরমাল। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবেদনকারী যে উদ্দেশ্যে দেশটিতে এসেছিলেন, তা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং সে দেশে ফিরে এসেছে। ফলে ভিসার কার্যকারিতা আর অবশিষ্ট নেই।
শায়খ আহমাদুল্লাহ দাবি করেছেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় বিষয়টি যেভাবে প্রচারিত হয়েছে, তেমন কিছু তিনি চিঠিতে দেখেননি।
আরও পড়ুন: এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া
তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার কিছু বিরোধী রাজনীতিক সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। কিছু চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষী আমাদের বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ এবং বিকৃত অনুবাদ প্রচার করেছে, যা তাদের প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া গত জানুয়ারিতে ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সার সামি ইয়াহুদের ভিসা বাতিলের ঘটনার বিপরীত প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই প্রচারণা চালানো হতে পারে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ধর্ম, জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতি তার ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি যেকোনো অন্যায় আচরণের আমি সবসময় বিরোধিতা করি।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট স্কাই নিউজকে বলেন, যারা ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামফোবিক মতাদর্শ ছড়ায়, তাদের প্রতি কোনো সহনশীলতা নেই এবং মাইগ্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী তাদের ভিসা বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘ইসলামিক প্র্যাকটিস অ্যান্ড দাওয়াহ সার্কেল’-এর আমন্ত্রণে ‘এ লেগাসি অফ ফেইথ’ ট্যুরে অংশগ্রহণের জন্য অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। সিডনির পাঞ্চবোলে তার প্রধান বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। তবে ভিসা বাতিল ও বিতর্কের কারণে তিনি আগেই দেশটি ত্যাগ করেছেন। ফলে সিডনির অনুষ্ঠানসহ ক্যানবেরা, অ্যাডিলেড এবং পার্থে নির্ধারিত তিনটি অনুষ্ঠানও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দলীয় ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেলিয়া ক্যাশ এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া একটি পশ্চিমা দেশ এবং আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধ রয়েছে। যারা এখানে ঘৃণা ছড়াতে আসে, তাদের শুরুতেই প্রবেশাধিকার দেওয়া উচিত ছিল না।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যাচাই করছে যে, শায়খ আহমাদুল্লাহকে স্থায়ীভাবে দেশটিতে নিষিদ্ধ করা হবে কি না। বিষয়টি এই সপ্তাহের শুরুর দিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








