News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:০৩, ৩১ মার্চ ২০২৬

সংবিধান ছুড়ে ফেলার মানসিকতা নিয়ে সংসদে পার্থের কড়া জবাব

সংবিধান ছুড়ে ফেলার মানসিকতা নিয়ে সংসদে পার্থের কড়া জবাব

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে সংবিধান অবমাননাকারী ও নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্যের শুরুতেই জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতার ‘সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেওয়ার’ বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন ভোলা-১ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “সংবিধান ছুড়ে ফেলব কেন? এই সংবিধানে এত গাত্রদাহ কেন? সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় যে এটি একাত্তরের পরাজয়ের দলিল?” তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংবিধানের ওপর যেমন শ্রদ্ধা থাকতে হবে, তেমনি জুলাইয়ের স্পিরিটকেও সমুন্নত রাখতে হবে। কোনো সদস্যের বক্তব্য যেন জুলাই অভ্যুত্থানকে খাটো বা আন্ডারমাইন না করে, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক করেন।

আন্দালিব রহমান পার্থ জুলাই সনদের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো আপত্তি না থাকলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

তিনি বলেন, জুলাই নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা যদি সংবিধান ছিঁড়ে ফেলে নতুন করে বানাতে চাইতেন, তবে সেই সময় রেভল্যুশনারি (বিপ্লবী) বা ট্রানজিশনাল সরকার গঠন করলেন না কেন? একটি সাধারণ সরকারের অধীনে থেকে এবং পুরোনো সংবিধানের কাঠামোতে থেকে আপনারা সেটি বাতিল করতে চাচ্ছেন এটা আসলে সাংবিধানিকভাবে সম্ভব নয়। 

আরও পড়ুন: ‘মব কালচার’ আর সহ্য করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন, যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর ভিত্তি করে তারা এগুচ্ছেন, তার প্রকৃত ভিত্তি কী।

বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পার্থ বলেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব শুধু নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নয়। 

তিনি ক্রিকেটীয় উপমায় বলেন, আপনারা শেষ ৬ বলে ১২ রান করেছেন, কিন্তু এর আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি। আমরা ১৭ বছর জেল খেটেছি, কষ্ট করেছি। এমন কথা বলবেন না যাতে দেশবাসী বিভ্রান্ত হয় এবং মনে করে যে জুলাইয়ে আমাদের কোনো অবদান নেই। যেদিন আবু সাঈদ শহীদ হয়েছে, সেদিন চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামও শহীদ হয়েছে। অবদান কারো কম নয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে যৌক্তিক প্রশ্ন তুললেই তাকে জুলাইয়ের বিপক্ষের শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করার একটি অপচেষ্টা চলছে। একে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের আচরণের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, তখন তেলের দাম নিয়ে কথা বললেও বলা হতো আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই না। এখন আমি সেই একই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজেপি চেয়ারম্যান বলেন, গণভোটে চারটি বিষয় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো ভোটার যদি তিনটি বিষয়ে একমত হয়ে একটিতে দ্বিমত পোষণ করেন, তবে তিনি কী করবেন? আপনারা তো ভোটারদের বাধ্য করেছেন। সনদের বাকি বিষয়গুলো কেন গণভোটে দেওয়া হলো না?

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা জেন-জিকে রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়ে যাইয়েন না। আপনারা পজিটিভ পলিটিক্স করেন। 

তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, যারা জুলাইয়ের স্পিরিটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে তারা কখনোই সফল হবে না, তবে সংস্কার হতে হবে আলোচনার ভিত্তিতে এবং সঠিক আইনি প্রক্রিয়ায়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়