নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:২৩, ৩০ মার্চ ২০২৬

‘মব কালচার’ আর সহ্য করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘মব কালচার’ আর সহ্য করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান তথাকথিত ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল গণপিটুনির সংস্কৃতি আর কোনোভাবে সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দাবি আদায়ের নামে সড়ক অবরোধ বা মব তৈরি করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা’র প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই নীতিগত অবস্থানের কথা জানান। 

অধিবেশনে রুমিন ফারহানা পূর্ববর্তী সরকারের সময়ের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রসঙ্গ তুলে বর্তমান সময়ের মব কালচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মব কালচারের শিকার হয়ে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি নিজেও ২১ ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনার ভুক্তভোগী হয়েছেন। এ প্রবণতা বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চেয়ে তিনি প্রশ্ন করেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকার স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে—দেশে কোনো ধরনের মব কালচার চলবে না। 

আরও পড়ুন: ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রবাসীদের সুরক্ষায় তৎপর সরকার’

তিনি বলেন, দাবি আদায়ের জন্য মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ করার যে প্রবণতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেখা গিয়েছিল, তা আর কখনো অনুমোদন করা হবে না।

মন্ত্রী মব ও সুসংগঠিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্যও তুলে ধরে তিনি বলেন, সব ধরনের সহিংস ঘটনাকে মব বলে আখ্যা দেওয়া ঠিক হবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা বা ভাঙচুর সুসংগঠিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর বিরুদ্ধে মামলা হয়, তদন্ত চালানো হয় এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের দাবি থাকতেই পারে, তবে তা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করতে হবে। তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান, সেমিনার আয়োজন বা শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশের মাধ্যমে মত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। সরকার বাকস্বাধীনতা ও সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করবে। তবে মবের মাধ্যমে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি থেকে দেশকে বেরিয়ে আসতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ‘মব কালচার’ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি প্রণয়নের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়