৩ মাস পর আদালতে খালেদা
ঢাকা: দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে তিন মাসেরও বেশি সময় পর আদালতে গেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
রোববার সকাল ১০টা ৫৭ মিনিটে তিনি আদালতের কক্ষে প্রবেশ করেন।
সাড়ে ১০টার দিকে তার গাড়ি বহর বকশিবাজারে বিশেষ জজ আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর ১০টা ৩৬ মিনিটে গাড়ি থেকে নামেন খালেদা জিয়া।
এর আগে সকাল নয়টা ৫৫ মিনিটে গুলশান কার্যালয় থেকে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর রওনা দেয়। গাড়ি বহরে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী চেয়ারপারসনস সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফএ) ছিল। ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তাও দেয়া হয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে।
এর আগে সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় বকশিবাজারে খালেদার গাড়িবহর ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠি হাতে মিছিল বের করলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই সময় ‘হামলার লক্ষ্য ছিল খালেদা জিয়া’- এমন অভিযোগ করে বিএনপি।
এ ঘটনার পর খালেদা জিয়া আর আদালতে যাননি। এর মধ্যে ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন। কিন্তু ওই আদেশের কপি এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছেনি। গ্রেপ্তার আদেশের পর ৪ মার্চ মামলার একটি ধার্য্য তারিখও গিয়েছে। ওইদিনও খালেদা জিয়া আদালতে যাননি। নিয়ম অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করেননি তিনি। তার পক্ষে ওই আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়।
ওই আবেদনের শুনানির সময় বিচারক ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার জানা, খালেদা জিয়া ৬৩ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র সাতটি দিবস আদালতে হাজির ছিলেন। বিচারক গ্রেপ্তার আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এ অবস্থায় তিন মাসেরও বেশি সময় পর রোববার আদালতে হাজিরা দিতে আদালতে গেলেন তিনি। খালেদা জিয়া আদালতে পৌঁছানোর আগেই মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। তার পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবীরা।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এককোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করে দুদক। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে ওই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে এই মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয় দুদক।
এরপর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এই দুই মামলায় অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩।
এসব মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর সহকারী একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম এবং সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এফই/এফএ
নিউজবাংলাদেশ.কম








