News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:১৫, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

৮ বিভাগীয় শহরে ইনকিলাব মঞ্চের অবরোধ কর্মসূচি

৮ বিভাগীয় শহরে ইনকিলাব মঞ্চের অবরোধ কর্মসূচি

ফাইল ছবি

শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার এবং বাংলাদেশকে ‘ভারতীয় প্রভাব’ থেকে মুক্ত করার দাবিতে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে চলমান অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেন সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে কর্মসূচির সময় কিছুটা পরিবর্তন করে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে অবরোধ সকাল থেকে শুরুর কথা থাকলেও, সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার দুপুর ২টা থেকে দেশের আট বিভাগীয় শহরে একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হবে। 

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের সংবাদ সম্মেলন পর্যালোচনার পর এই সময় চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচিতে আবদুল্লাহ আল জাবের সমর্থকদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা আজ এসেছেন, তারা যেন আগামীকালও শাহবাগে এসে দাঁড়ান এবং ইনসাফের এই লড়াই চালিয়ে যান। 

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো প্ররোচনা বা কারও চাপে এই অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেওয়া হবে না।

অবরোধের লক্ষ্য সম্পর্কে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, এই আন্দোলন শুধু হাদি হত্যার বিচারের জন্য নয়, বরং এটি ‘ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার অবরোধ’। 

আরও পড়ুন: হাদি হত‍্যার বিচার দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি প্রধান উপদেষ্টা হাদি হত্যার বিচারের ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন, তবে আমরা তাকেও মানব না। ইনসাফের লড়াইয়ে তারা কোনো উপদেষ্টার সঙ্গে কোনো ধরনের আপোসে যাবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবদুল্লাহ আল জাবের কিছু গণমাধ্যমের প্রচারণার কঠোর সমালোচনা করেন। 

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সংবাদমাধ্যম ‘যমুনা ভবন ঘেরাও’-এর মতো বিভ্রান্তিকর খবর প্রচার করছে, যা আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে দেখানোর চেষ্টা। 

তিনি সমর্থকদের প্রতি নির্দেশ দেন যে, ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল পেজের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো মিডিয়ার সংবাদের ওপর যেন ভরসা না করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠালেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ১৯ ডিসেম্বর মরদেহ দেশে আনার পর ২০ ডিসেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা শেষে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়।

গত কয়েকদিন ধরে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন বলে দাবি করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, তারা মৃত্যুকে ভয় করেন না এবং ‘শাহাদাতের তামান্না’ নিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়েছেন। আন্দোলনের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে তিনি উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করেন, আমরা যদি শহীদ হয়ে যাই, আপনারা কি ইনসাফের এই লড়াই থামাবেন? উপস্থিত ছাত্র-জনতা সমস্বরে ‘না’ বলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়