‘প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের যোগ্যতা একই, তবু বৈষম্য’
ঢাকা: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের যোগ্যতা এক হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে শ্রেণি ও বেতন বৈষম্য দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ সভাপতি শাহিনুর আল-আমিন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান। এ সম্মেলনে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের একই শ্রেণিভুক্ত ও সহকারী শিক্ষক থেকে শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিতকরণসহ ১২ দফা দাবি পেশ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে শাহিনুর আল-আমিন বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের যোগ্যতা এক হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে শ্রেণি ও বেতন বৈষম্য দেখা দিয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের ২য় শ্রেণির পদমর্যাদা দেয়ায় তাদের মধ্যে একটা অফিসার ভাব চলে এসেছে, আর আমরা থাকি কর্মচারীর মতো।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের দাবি পূরণ না হলে প্রয়োজনে আমরা স্কুলে তালা ঝোলাব। রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলবো।”
সংগঠনের সিনিয়র সভাপতি আবুল কাসেম আজাদ সংগঠনের পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, “প্রধান শিক্ষকদের একধাপ নিচের গ্রেডে অবস্থানরত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করে উভয় পদকে একই শ্রেণিভুক্ত করতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, “অবিলম্বে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বন্ধ করে শতভাগ পদোন্নতি চালু করতে হবে। নিয়োগবিধি পরিবর্তন করে নারী-পুরুষ উভয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা সমান করতে হবে।”
আবুল কাসেম আজাদ বলেন, “আমাদের এ দাবিগুলো পূরণ হলে শিক্ষাব্যবস্থা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যেকার দূরত্ব দূর হবে। উভয়ের মধ্যে সমতা বিরাজ করবে। উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবীরা এ পেশায় আসতে চাইবে।”
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “বলা হয়ে থাকে শিক্ষক জাতি গঠনে ভূমিকা রাখে, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। অথচ মানবেতর জীবনযাপন করে ৩ লাখ ৫০ হাজার সহকারী শিক্ষকের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য প্রিন্সিপাল শাহজাহান আলম সাজু, কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য সম্পাদক মো. সেলিম হোসেন প্রমুখ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/টিএ/এটিএস
নিউজবাংলাদেশ.কম








