News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:১৪, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ বিরতির পর সারাদেশে একযোগে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু

দীর্ঘ বিরতির পর সারাদেশে একযোগে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু

ফাইল ছবি

দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে আবারও শুরু হলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। সারাদেশে একযোগে আয়োজিত এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী। পরীক্ষা চলবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবছর দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে একযোগে এই মেধা যাচাই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা মোট পাঁচটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বাংলা, ইংরেজি ও গণিত—এই তিন বিষয়ে ১০০ নম্বর করে পরীক্ষা হচ্ছে, সময় নির্ধারিত ৩ ঘণ্টা।

বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০+৫০ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, প্রতিটির সময় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট করে।

সব মিলিয়ে মোট নম্বর ৪০০।

পরীক্ষার সূচি

  • ২৮ ডিসেম্বর (রবিবার): বাংলা
  • ২৯ ডিসেম্বর (সোমবার): ইংরেজি
  • ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার): গণিত
  • ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার): বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

প্রথম দিন আজ বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হলো এই বৃত্তি পরীক্ষা।

শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

আরও পড়ুন: জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিয়ে নতুন নির্দেশনা

  • পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করতে হবে।
  • বিশেষ কারণে কেউ দেরিতে এলে রেজিস্টার খাতায় তথ্য লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রসচিবের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।
  • কোনো পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ, ব্লুটুথ ডিভাইসসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনতে পারবে না।
  • উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে বলপেন দিয়ে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে।
  • কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
  • পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পার হওয়ার আগে উত্তরপত্র জমা নেওয়া হবে না।
  • হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক।
  • পরীক্ষা শেষের ১০ মিনিট আগে সতর্ক ঘণ্টা বাজানো হবে এবং সময় শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গে উত্তরপত্র সংগ্রহ করা হবে।

পরীক্ষায় বোর্ড অনুমোদিত আটটি মডেলের নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

অনুমোদিত মডেলগুলো হলো Fx-82MS, Fx-100MS, Fx-570MS, Fx-991MS, Fx-991Ex, Fx-991ES, Fx-991ES Plus ও Fx-991CW।

এ ছাড়া সাধারণ (নন-সায়েন্টিফিক) ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হবে।

পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষক নিয়োজিত থাকছেন। প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করতে পারবেন না।

মাধ্যমিক বা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সপ্তম শ্রেণির সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।

পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ- এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। বৃত্তির ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৯ সালে অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা চালু হওয়ায় এই বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। তবে সমালোচনার মুখে ২০২৩ সালে জেএসসি-জেডিসি বাতিল করা হয়। ২০২৪ সালেও কোনো পরীক্ষা হয়নি। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আবারও ফিরল এই ঐতিহ্যবাহী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়