এখনও ছাপাই হয়নি মাধ্যমিক পাঠ্যবইয়ের ২৮%
ফাইল ছবি
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যবই সেট পাচ্ছে না। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তত্ত্বাবধানে চলা মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় গাফিলতি ও দুর্নীতির কারণে ২১ কোটি বইয়ের মধ্যে ২৮ শতাংশ এখনও ছাপানো হয়নি। এর পাশাপাশি, ছাপানো বইয়ের অর্ধেকও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের পুরো বইয়ের সেট হাতে পেতে মার্চ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘সোহাগী প্রিন্টার্স’ প্রতিষ্ঠানটি ৯ম শ্রেণির ১১ লাখ ৯২ হাজার বই ছাপানোর দায়িত্ব পেয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি দরপত্রে ছয়টি শিট মেশিন থাকার দাবি করলেও বাস্তবে রয়েছে মাত্র একটি শিট এবং একটি গজ মেশিন। এমনকি তাদের প্রদত্ত ঠিকানায় কোনো ছাপাখানার অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার আরেকটি ইউনিট আছে। আর একটি মেশিন পরিবর্তন করে গজ মেশিন নিচ্ছি।
শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, এই ধরনের প্রতিষ্ঠান সক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি কাজ নিয়েছে। ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেও কাজ পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তাদের মতে, এনসিটিবির দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এমন অনিয়ম সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক স্তরের শতভাগ বইয়ের মুদ্রণ সম্পন্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, দুর্নীতির শিকড় এত গভীরে যে এখান থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। যন্ত্রের পেছনের মানুষগুলো যদি সৎ না হয়, তবে কোনো প্রক্রিয়াই সঠিকভাবে কাজ করবে না।
এ বছর মাধ্যমিকের ২১ কোটি বই ছাপানো হচ্ছে। এর মধ্যে ৭২ শতাংশ বই ছাপানো হলেও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে মাত্র অর্ধেক। ফলে বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছানো অসম্ভব বলে মুদ্রণ মালিকরা জানিয়েছেন।
মুদ্রণ শিল্প মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, প্রথমত, সক্ষমতার বাইরে কাজ দেওয়া হয়েছে এবং অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানও কাজ পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, মাধ্যমিক স্তরে প্রাথমিকের চেয়ে কাগজ, ছাপা ও বাঁধাইয়ের কাজ অনেক বেশি। এসব সমন্বয় না করায় দেরি হচ্ছে।
সংক্রান্তরা জানিয়েছেন, দেশে শতাধিক পেপার মিল থাকলেও এনসিটিবি মাত্র পাঁচটি মিলকে অনুমোদন দিয়েছে। কাগজের এই সিন্ডিকেট বাণিজ্যের কারণে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপাতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা মনে করছেন।
এনসিটিবি দাবি করছে, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংস্থাটির সদস্য অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বলেন, যে কয়টি প্রেসের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পাব, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








