কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের পল্লবী থানাধীন কালশী বাউনিয়াবাদ (বাউনিয়াবাঁধ) বস্তিতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে আকস্মিক এই আগুনের সূত্রপাত হয়।
মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া পুরো বস্তিতে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও তীব্র উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের বেশ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেছে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে কালশী বস্তিতে আগুন লাগার প্রথম সংবাদটি তারা পান। ঘটনার পরপরই পল্লবী ও মিরপুর ফায়ার স্টেশন থেকে দ্রুত পাঁচটি ইউনিটকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা সাড়ে ৭টার মধ্যে সেখানে পৌঁছে সরাসরি আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হয়। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহায়তার জন্য মিরপুর ও কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশন থেকে আরও দুটি ইউনিট দুর্ঘটনাকবলিত এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসের টিমগুলো সক্রিয় করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুটি ইউনিট সরাসরি স্পটে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং বাকি পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য পথিমধ্যে রয়েছে। সবকটি ইউনিট একসাথে কাজ শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই বস্তির একটি অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং চোখের পলকে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ভয়াবহতা এতোটাই বেশি ছিল যে, দূর-দূরান্ত থেকেও আগুনের শিখা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। আগুন লাগার সাথে সাথেই বস্তির ভেতরের বাসিন্দারা জীবন বাঁচাতে এবং ঘরের মূল্যবান মালামাল সরাতে হুড়োহুড়ি করে বাইরে বের হতে শুরু করেন। তারা দ্রুত ঘর ছেড়ে আশপাশের নিরাপদ রাস্তায় ও খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের পেশাদার দমকলকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় উৎসুক জনতা ও বাসিন্দারাও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পুরো এলাকা ঘিরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং কী পরিমাণের আর্থিক বা বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








