নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:১৪, ৯ জুন ২০২৬
আপডেট: ১৬:২৩, ৯ জুন ২০২৬

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক নিহত

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক নিহত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম অংশে আবারও ভয়াবহ স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে আব্দুল খালেক (৩০) নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী সীমান্ত এলাকার আন্তর্জাতিক শূন্য রেখা সংলগ্ন বাংলাদেশ অভ্যন্তরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত আব্দুল খালেক কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আনু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনার পর থেকে সীমান্তবর্তী স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, আজ সকালে আব্দুল খালেক ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধীনস্থ রেজু আমতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৪০ সংলগ্ন এলাকায় যান। 

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক শূন্য লাইন থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত মাস্টার শাহ আলমের একটি আকাশমনি বাগান পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। বাগানে কাজ করতে যাওয়ার পথে অসাবধানতাবশত মাটিতে পুঁতে রাখা একটি ল্যান্ডমাইনের ওপর পা পড়লে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। 

আরও পড়ুন: পাবনায় ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৩

বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই আব্দুল খালেকের বাম পা শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ডান পা মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ছোট ভাই ও অন্যান্য শ্রমিকেরা রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ (মেডিসিনস স্যানস ফ্রন্টিয়ার্স) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর নাগাদ কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম (পিবিজিএম, পিএসসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় এখনো মাইন বিস্ফোরণের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরেই ল্যান্ডমাইন ও বিভিন্ন বিস্ফোরক পুঁতে রাখা হয়েছে, যা বর্ষা মৌসুমে বা অসাবধানতাবশত সীমান্তের কাছাকাছি গেলে সাধারণ মানুষের জন্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

তিনি আরও জানান, জীবনের ঝুঁকি এড়াতে এবং ল্যান্ডমাইন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় জনসাধারণ ও রোহিঙ্গাদের সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত না করার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর বিজিবি সীমান্ত এলাকায় তাদের নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ঘুমধুম পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ এখন স্থানীয়দের জন্য এক স্থায়ী আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এক মাসে সীমান্ত এলাকায় একাধিক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবারের এই তাজা হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যেসব স্থানীয় বাংলাদেশিদের ফসলি জমি, ফলের বাগান বা জুমচাষের জায়গা সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত, তারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং জীবিকার তাগিদেও সেখানে যেতে ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয়রা এই মরণফাঁদ থেকে স্থায়ী মুক্তি ও সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়