নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:০৪, ২৫ মে ২০২৬

রাজধানীতে একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যা

রাজধানীতে একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে একের পর এক শিশু ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। মিরপুর, পল্লবী ও কলাবাগানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মহাখালী ও ভাষানটেকে অবুঝ শিশুরা পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। তবে মহাখালীর ঘটনায় উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে অবরুদ্ধ করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

মহাখালীতে অবুঝ শিশুকে ধর্ষণ: ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা ও এলাকা জুড়ে উত্তেজনা
রাজধানীর মহাখালীর রসুলবাগ এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণের নারকীয় ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

রবিবার (২৪ মে) স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। 

ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় এক দোকানি, যার নাম ফালু, সুযোগ বুঝে তার অবুঝ শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পাশবিক এই নির্যাতনের পর বিষয়টি যাতে কোনোভাবেই জানাজানি না হয়, সেজন্য অভিযুক্ত ফালু শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ফলে ভয়ে ও আতঙ্কে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি লুকিয়ে রাখে।

পরবর্তীতে ঘটনাটি পরিবারের নজরে আসলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রতিবেশীদের জানানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ভুক্তভোগী পরিবারটি যে বাড়িতে ভাড়া থাকে, তার মালিক এতে চরম বাধা সৃষ্টি করেন। লোকলজ্জা, সামাজিক মর্যাদা ও নিজস্ব ব্যক্তিগত স্বার্থের দোহাই দিয়ে বাড়ির মালিক পক্ষ পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। এমনকি আইনি সহায়তার জন্য পরিবারটি যাতে বাইরে যেতে না পারে, সেজন্য তাদের কার্যত ঘরের ভেতর আটকে রাখা হয় এবং বাইরে বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। 

রবিবারে এই অবরুদ্ধ দশা এবং পাশবিক নির্যাতনের খবরটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা রাজপথে নেমে আসেন। বিক্ষুব্ধ জনতা অবিলম্বে অভিযুক্ত ধর্ষক ফালুর দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবির পাশাপাশি যারা এই জঘন্য অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করেছে এবং পরিবারটিকে জিম্মি করেছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। 

এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তারা জেনেছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: ধর্ষণের পর শিশুকে গোসল করিয়ে বাড়িতে রেখে গেল অভিযুক্ত

ভাষানটেকে ৮ বছরের শিশুকে নির্যাতন: রিকশাচালক হোসেন গ্রেফতার, পাঠানো হলো কারাগারে
এদিকে রাজধানীর ভাষানটেকে আট বছর বয়সী আরেক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. হোসেন নামের এক রিকশাচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত হোসেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ডুমুরিয়া এলাকার মৃত সাহেব আলী ফকিরের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে ভাষানটেক এলাকায় বসবাস করে রিকশা চালাত। 

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে শিশুটি তার ঘরের সামনে খেলছিল। ওই সময় ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে হোসেন শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে এবং শিশুটির মুখ চেপে ধরে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার পর লোকলজ্জা ও ভয়ে শিশুটি চুপ থাকলেও গত দুই-তিন দিন ধরে সে তার গোপনাঙ্গে তীব্র ব্যথার কথা জানিয়ে ক্রমাগত কান্নাকাটি করতে থাকে। একপর্যায়ে শনিবার (২৩ মে) রাত ৮টার দিকে সে তার পরিবারের কাছে হোসেনের সেই নৃশংসতার কথা খুলে বলে।

মেয়ের মুখে এই ভয়াবহ নির্যাতনের বিবরণ শুনে ওই রাতেই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ভাষানটেক থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পরই ভাষানটেক থানা পুলিশ তৎপর হয়ে রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। 

ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার রাতে মামলা হওয়ার পর পরই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর রবিবার (২৪ মে) সকালে তাকে ব্যপক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ আদালত শুনানির পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রাজধানীতে শিশু নির্যাতনের ধারাবাহিকতা: ক্ষোভে ফুঁসছে নগরবাসী
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে একের পর এক শিশু নির্যাতন ও খুনের ঘটনা নাগরিক সমাজকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসা আক্তার নামের এক শিশুর নৃশংস মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পূর্বে ওই শিশুটিকে অত্যন্ত বর্বরোচিতভাবে ধর্ষণ করা হয়েছিল। দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে। এ ছাড়া গত ২২ মে রাতে রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় আরেক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করে ইতোমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

একের পর এক এমন ঘৃণ্য অপরাধের ঘটনায় রাজধানীর সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তা হীনতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল এই সমস্ত অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়