নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:১৮, ২৪ মে ২০২৬

ধর্ষণের পর শিশুকে গোসল করিয়ে বাড়িতে রেখে গেল অভিযুক্ত

ধর্ষণের পর শিশুকে গোসল করিয়ে বাড়িতে রেখে গেল অভিযুক্ত

প্রতীকি ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নয় বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের তেলিকান্দা উত্তরপাড়া গ্রামে শনিবার (২৩ মে) দুপুরে এই অমানবিক ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদরাসার মক্তব বিভাগের ছাত্রী এবং এক সৌদি আরব প্রবাসীর মেয়ে। এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রতিবেশী সহিদুল মিয়া ওরফে সহিদ (৩৫) পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্ত সহিদ একই গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার দুপুরে শিশুটি তার বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী সহিদুল মিয়া তাকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে একটি দূরবর্তী নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। নৃশংস এই অপরাধ সংঘটিত করার পর অভিযুক্ত সহিদ ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সহিদ নিজেই ওই শিশুকে পাশের একটি নদীতে নিয়ে গোসল করায় এবং পরবর্তীতে তাকে বাড়ির সামনে রেখে আত্মগোপনে চলে যায়।

বাড়ি ফেরার পর শিশুটি প্রচণ্ড শারীরিক অসুস্থতা বোধ করলে একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে সম্পূর্ণ ঘটনাটি খুলে বলে। বিষয়টি জানার পরপরই পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধারের পর দ্রুত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং শনিবার রাতেই তাকে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: সাড়ে ৩ মাসেও মেলেনি অপহৃত খুকুমণির খোঁজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী এই বিষয়ে জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই ভুক্তভোগী শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষাগুলোর রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় রয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে ধর্ষণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং প্রকৃত শারীরিক অবস্থা স্পষ্ট হবে।

এদিকে ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে স্থানীয় প্রশাসন। 

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়েই তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত সহিদুল মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশ ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। 

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই মামলা রুজুসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়