সাড়ে ৩ মাসেও মেলেনি অপহৃত খুকুমণির খোঁজ
ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সাড়ে তিন মাস আগে নিখোঁজ হওয়া মাদরাসাছাত্রী খুকুমণির (১৫) এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত এজাহারনামীয় কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে চরম হতাশা, উৎকণ্ঠা এবং তীব্র নিরাপত্তা হীনতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। প্রতিদিন মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে নিখোঁজ সন্তানের ফিরে আসার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছেন এক অসহায় কৃষক দম্পতি।
নিখোঁজ খুকুমণি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় কৃষক আলতাফ মন্ডলের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে খুকুমণিকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে নিয়ে যায় একই এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র। ঘটনার পর থেকে মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে এবং সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেয় পরিবারটি। পরবর্তীতে গত ৩ এপ্রিল উলিপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন খুকুমণির মা সাহেরা বেগম। মামলায় একই এলাকার বাসিন্দা হৃদয় হোসেন, মজিবর রহমান, মজিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও ছালমা বেগমসহ মোট পাঁচজনকে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা
খুকুমণির পরিবারের অভিযোগ, মামলার আসামিরা এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে এক ধরনের গড়িমসি ও উদাসীনতা প্রদর্শন করছে। এমনকি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের ধরা হচ্ছে না বলে ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মিয়া এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটি অসহায় দরিদ্র কৃষক পরিবারের নাবালিকা মেয়েকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরও এতদিন ধরে কোনো বিচার বা অগ্রগতি না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগের বিষয়। তিনি অনতিবিলম্বে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে মেয়েটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
মেয়ের একটি ছবি হাতে নিয়ে প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে দিন গুনছেন খুকুমণির দিনমজুর বাবা-মা। সন্তান হারানোর বেদনায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা আলতাফ মন্ডল বলেন, আমরা গরীব মানুষ বলে কি এই দেশে বিচার পাবো না? আমি এখন আর কোনো বিচার চাই না, সরকারের কাছে আমার একটাই আকুতি শুধু আমার মেয়েটাকে আমার বুকে ফিরিয়ে দিন। কত দিন হলো ওর মুখটা দেখি না, বুকটা ফেটে যাচ্ছে।
অন্যদিকে মা সাহেরা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, থানা আর কোর্টে মামলা ঘুরেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আমার মেয়েটা আজ বেঁচে আছে নাকি আসামিরা তাকে মেরে ফেলেছে, আমি তাও জানি না। আমরা শুধু আমাদের আদরের খুকুমণিকে ফেরত চাই।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সাহেবের আলগা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে তাদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ও র্যাব (RAB) যৌথভাবে কাজ করছে এবং মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বা অন্য কোনো কারণে বাদীপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ সুবিধা নেওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








