News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৩৭, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল ও বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’।

রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এই কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করায় দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

ধর্মঘটের প্রথম প্রভাব পড়েছে জেটি, টার্মিনাল, কনটেইনার ডিপো এবং বহির্নোঙরের সব কার্যক্রমে। বন্দরের অভ্যন্তরে ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রায় ৮০টি বড় জাহাজসহ লাইটার জাহাজগুলোতে পণ্য লোডিং-আনলোডিং মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থিং অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সারোয়ার সাগর জানান, আন্দোলনকারীরা আজ সকাল থেকেই অধিকাংশ জাহাজের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যায়ের ১০টি জাহাজের কাজ সম্পন্ন করার জন্য আন্দোলনকারীরা সাময়িক ছাড় দিয়েছেন।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ধর্মঘটের কারণে পুরোনো জেনারেল কার্গো বার্থে (জিসিবি) তিনটি কনটেইনার জাহাজসহ মোট সাতটি জাহাজের লোডিং-আনলোডিং পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের অধীনে থাকা সিসিটি ও এনসিটির জেটিগুলোতে সীমিত কার্যক্রম চালু রয়েছে।

ধর্মঘটের কারণে বন্দরের প্রশাসনিক ভবন, অডিটোরিয়াম এবং প্রবেশপথে পুলিশের পাশাপাশি সেনা সদস্যদেরও ব্যাপক মোতায়েন দেখা গেছে। সকালে বন্দরের অভ্যন্তরে এবং বহির্নোঙরে শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালানো হয়। সমন্বয়করা সাধারণ শ্রমিকদের জেটিতে প্রবেশ না করার আহ্বান জানিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতিতে আন্দোলন পরিচালনা করছেন।

আরও পড়ুন: যৌথ অভিযানে ফরিদপুরে পুকুরের তলদেশে গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘শনিবার রাত থেকে বন্দরের কলোনি এলাকায় আমাদের কর্মচারীদের ধরে এনে হয়রানি করা হচ্ছে। জেটিতে পুলিশ প্রবেশ করেছে এবং শ্রমিকদের অডিটোরিয়ামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যাতে দেখানো যায় যে শ্রমিকরা চেয়ারম্যানের সঙ্গে আছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের ধর্মঘট আজ সফলভাবে চলছে।’

অন্য সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘সরকারকে দেখাতে বিকল্প শক্তি তৈরি করা হচ্ছে, কিন্তু বন্দর শ্রমিকরা এমন বিভ্রান্তিতে নেই। আমরা কর্মসূচি শুরু করেছি কারণ আমাদের দাবিগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।’

সংগ্রাম পরিষদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—১) এনসিটির ইজারা চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করা, ২) চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার, ৩) আন্দোলনে যুক্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সকল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল করে স্বপদে পুনর্বহাল, এবং ৪) আন্দোলনরত নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও সব ধরনের হয়রানি বন্ধ।

গতকালের (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দেয় সংগঠনটি। পরিষদের নেতারা জানান, নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে পূর্ব বৈঠকের পর দাবি পূরণের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় শ্রমিকরা আবারও কর্মবিরতি শুরু করতে বাধ্য হয়েছেন।

এর আগে ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারীরা ধারাবাহিকভাবে কর্মবিরতি পালন করেছেন। এরপর দুই দিনের বিরতির পর আবারও রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে বন্দরে পণ্য পরিবহন ও কনটেইনার ডেলিভারিতে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে, যার ফলে আমদানিকারককে জরিমানা গুণতে হতে পারে।

পুলিশ ও বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুই কর্মচারীকে আটক করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের উপ-কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম জানান, আন্দোলনে তাদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। আটককৃতরা হলেন আবু কালাম আজাদ ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মচারী শামসু মিয়া টুকু।

সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বন্দরের অভ্যন্তরে এবং বহির্নোঙরে অবস্থানরত শ্রমিকরা সৃজনশীলভাবে আন্দোলন চালাচ্ছেন। বন্দরের কার্যক্রম চালু করার চেষ্টা করলেও ধর্মঘটকারীরা ফের প্রতিরোধ করছেন। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান আজ সকাল সাড়ে ১১টায় গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈঠকে বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও অচলাবস্থার মধ্যে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের এই ধর্মঘট দীর্ঘদিন চলতে পারে, যদি সরকারের পক্ষ থেকে চার দফা দাবির বাস্তবায়ন না হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়