News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৫৬, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যৌথ অভিযানে ফরিদপুরে পুকুরের তলদেশে গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার

যৌথ অভিযানে ফরিদপুরে পুকুরের তলদেশে গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনের আগে সহিংসতা ও নাশকতার আশঙ্কার মধ্যেই ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর আখ সেন্টার এলাকায় একটি পুকুরের তলদেশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। 

শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন কানাইপুর আখ সেন্টারের একটি পুকুরে দিনভর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে এই অস্ত্রের ভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়।  সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযান-সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের সহিংসতা ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র বা দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এসব অস্ত্র মজুত করেছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র বা নাশকতাকারী গোষ্ঠীর ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব অস্ত্র গোপনে মজুত রাখা হয়েছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে এমন তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল ৯টা থেকে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাযুল আবেদীন (পিএসসি) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাজের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পুকুরের পানি সেচযন্ত্রের মাধ্যমে সরানো হয়। পানি কমে এলে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে পানির নিচে ও মাটির তলদেশে অনুসন্ধান চালিয়ে স্কচটেপে মোড়ানো বস্তা ও প্যাকেট উদ্ধার করা হলে সেখান থেকেই অস্ত্রের ভাণ্ডার পাওয়া যায়।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি চারটি অত্যাধুনিক পিস্তল ও ১৬ রাউন্ড গুলি, দুটি সিঙ্গেল ব্যারেল কাটা পাইপগান ও দুটি কার্তুজ, দুটি ওয়ান শুটার বা সিঙ্গেল গান, পাঁচটি চাইনিজ কুড়াল, ৬৫টি ছোট-বড় ছেনদা, আটটি বল্লম, শতাধিক রামদা, সরকি ও বল্লমের মাথা (১০১টি), ছয়টি ছোট-বড় চাকু, একটি টেঁটা এবং পাঁচটি খালি কাঁচের মদের বোতল।

আরও পড়ুন: জামায়াতের জনসভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলেন এবি পার্টি নেতা

অভিযান শেষে ফরিদপুর সদর সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সোহেল আহমেদ বলেন, নাশকতার উদ্দেশ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ করে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে সহিংসতা সৃষ্টি এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যেই দুষ্কৃতকারীরা এসব অস্ত্র মজুত করেছিল। 

তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর কিছু অংশ ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া হতে পারে; তবে তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এগুলো কোনো থানার জব্দকৃত অস্ত্র কি না।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশের পুকুরকে অস্ত্র লুকানোর স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া মোটেও কাকতালীয় নয়। প্রয়োজন হলে দ্রুত তুলে নেওয়া এবং সন্দেহ এড়াতে পানির নিচে রেখে দেওয়ার কৌশল সংগঠিত ও প্রশিক্ষিত অপরাধচক্রের ইঙ্গিত দেয়। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এত পরিমাণ অস্ত্র একা কোনো ব্যক্তির পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়; এর পেছনে শক্ত নেটওয়ার্ক রয়েছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র তখনও থানায় পৌঁছায়নি; পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। অস্ত্রগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কতদিন ধরে এসব অস্ত্র মজুত করে রেখেছিল তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সেনা ক্যাম্প সূত্র জানিয়েছে।

অভিযান চলাকালে পুকুরপাড় ও আশপাশের মহাসড়কে বিপুল জনসমাগম ঘটে এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগে বিষয়টি জানা থাকলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত। 

তাদের মতে, যৌথ বাহিনীর এই অভিযান বড় ধরনের অঘটন প্রতিরোধ করেছে; একই সঙ্গে নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়