News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৪৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচন ঘিরে উখিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৫০০ রোহিঙ্গা আটক

নির্বাচন ঘিরে উখিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৫০০ রোহিঙ্গা আটক

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করতে কক্সবাজারের উখিয়ায় বড় ধরনের বিশেষ অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। 

রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত থেকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে শরণার্থী ক্যাম্পের সীমানা পেরিয়ে বাইরে অবৈধভাবে অবস্থান করা অন্তত ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। 

অভিযান এখনো অব্যাহত থাকায় আটককৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে যৌথ বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। এর আগে শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত থেকেই এলাকায় সাঁড়াশি তৎপরতা শুরু হয়। 

যৌথ বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গাদের অপব্যবহার করে নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আটককৃতদের অনেকেই প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করছিল। রোহিঙ্গাদের জন্য নির্ধারিত ক্যাম্প থাকা সত্ত্বেও তারা নিয়ম ভেঙে স্থানীয় বাঙালিদের জমি দখল করে বসবাস করছে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর

যৌথ বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বিশেষ গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে এমন সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত জনগোষ্ঠীকে নাশকতামূলক কাজে লাগানোর ঝুঁকি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বর্তমানে আটক রোহিঙ্গাদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো করা হচ্ছে। তবে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পে পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রথমে নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে তারা কেন এবং কার সহায়তায় নির্ধারিত সীমানা ছেড়ে বাইরে এসেছে। নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক পক্ষ তাদের ভাড়াটে হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।

প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর আটক ব্যক্তিদের স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনরায় শরণার্থী ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে এবং নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বিত এই তৎপরতা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী এলাকার বার্মা কলোনিসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। একইভাবে সম্প্রতি বিভিন্ন কলোনিতেও কয়েক দফা অভিযানে অবৈধভাবে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়