News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৩০, ৯ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৫:০৭, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

হাইকোর্ট দেখছেন সুনীলের কাকাবাবু

হাইকোর্ট দেখছেন সুনীলের কাকাবাবু

আন্দামান দ্বীপ থেকে মাসাইমারার জঙ্গল পর্যন্ত গেলেও কখনও আদালতে যেতে দেখা যায় নি কথা-সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি কাকাবাবুকে। তবে, এবার তাকে সিনেমার সত্ব সংক্রান্ত জটিলতায় কলকাতা হাইকোর্ট দেখতে হচ্ছে।

শ্রীভেঙ্কটেশ ফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেড কাকাবাবুর কাহিনি অবলম্বনে সিনেমার সত্ব নিয়ে
আরপি টেকভিশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

ভেঙ্কটেশের অন্যতম কর্ণধার মহেন্দ্র সোনির দাবি, কাকাবাবু সিরিজ নিয়ে কোন ছবি ও টেলি-সিরিয়াল করার স্বত্ব সাত বছরের জন্য কেবল তাদেরই দিয়ে গিয়েছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু এবছর ফেব্রুয়ারিতে সুনীলের স্ত্রী-পুত্র স্বাতী ও শৌভিক গঙ্গোপাধ্যায় আরপি টেকভিশনের সঙ্গে এক চুক্তির ফলে ‘জঙ্গলগড়ের চাবি’ নিয়ে সিনেমা তৈরির স্বত্ব পায়। প্রসঙ্গত, ২০১২-র অক্টোবরে সুনীল প্রয়াত হন।

ওই মাসেই আদালতে ভেঙ্কটেশের এক আবেদনে প্রেক্ষিতে ‘জঙ্গলগড়ের চাবি’র উপরে সিনেমা তৈরির বিষয়ে স্থগিতাদেশ জারি করের আদালত। ভেঙ্কটেশ ‘কাকাবাবু সিরিজে’র একমাত্র স্বত্ব দাবি করার পর আরপি টেকভিশন জানায়, চুক্তিতে ঠিক কয়টি গল্প আর কোন কোন গল্প, তা স্পষ্ট নয়।

ভেঙ্কটেশের মহেন্দ্র সোনির দাবি, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে ২০১২-র জানুয়ারিতে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্য কেউ কাকাবাবু নিয়ে ছবি বা টেলি-সিরিয়াল করতে পারবে না।

আরপি টেকভিশনের কর্ণধার কৌস্তুভ রায় দাবি করেন, ‘‘কাকাবাবুকে নিয়ে সুনীল মোট ৩৭টি কাহিনি রচনা করেছেন। সেগুলোর নাম চুক্তিপত্রে উল্লেখ নেই। শুধু কাকাবাবু সিরিজ বলা আছে। কাকাবাবুর সমস্ত কাহিনি নিয়ে ছবি ও টেলি-সিরিয়াল করার একমাত্র স্বত্ব কেবল ভেঙ্কটেশের, তা চুক্তিতে বলা নেই।’’

কৌস্তুভ রায় বলেন, ১৯৫৭ সালের কপিরাইট আইন অনুযায়ী যে রচনার স্বত্ব নেওয়া হচ্ছে, তার নাম স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকা দরকার।

আরপি টেকভিশনের কর্ণধারের বক্তব্য সম্পর্কে ভেঙ্কটেশের আইনজীবী সঞ্জয় বসু বলেন, কাকাবাবু সিরিজ বললে কাকাবাবুকে নিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা সব গল্পই বোঝায়। আরপি টেকভিশনের পক্ষ থেকে চুক্তি বাবদ সুনীলের স্ত্রী-পুত্রকে এক লক্ষ টাকাও দেওয়া হয়েছে।

সুনীলের স্ত্রী স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘আদালতের রায়ই সবাইকে মেনে নিতে হবে।
তবে আমার মনে হয়, সুনীলের ভালমানুষির সুযোগ নিয়ে ওঁকে দিয়ে ওই চুক্তিপত্রে সই করানো হয়েছিল। আমি চাই, কাকাবাবু এই নাগপাশ থেকে মুক্ত হোন!’’

এদিকে, কাকাবাবু সুনিলের মৃত্যুর পর কলকাতা হাইকোর্টে দেখলেও দর্শক কিন্তু তাকে ইতিমধ্যেই সিনেমায় দেখে ফেলেছেন। শ্রীভেঙ্কটেশ ফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রযোজনায় সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ও  প্রসেনজিৎ অভিনিত কাকাবাবুর কাহিনি অবলম্বনে ‘মিশর রহস্য’ হলে বসেই মিমাংসা হতে দেখেছেন দর্শক। প্রসেনজিৎকে কাকাবাবুর নামভূমিকায় রেখে ভেঙ্কটেশ এর পরে ‘পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক’ ছবি করার প্রস্তুতিও নিয়েছে।      

ভেঙ্কটেশ জানায়, তিন লক্ষ টাকাও দেওয়া হয়েছে লেখককে। চুক্তি অনুসারে সাত বছরে কাকাবাবুর গল্প নিয়ে ছবি বা টেলি-সিরিয়াল করলে কাহিনি পিছু লেখক বা আইনি উত্তরাধিকারীদের এক লক্ষ করে টাকা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, মাস দুয়েক আগে আরপি টেকভিশন চিরঞ্জিতকে কাকাবাবুর নামভূমিকায় রেখে ‘জঙ্গলগড়ের চাবি’ অবলম্বনে সিনেমার তৈরি শুরু করলেও আদালতের আদেশে স্থগিত হয়ে যায়।

পরে, গত ৩০ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন আরপি টেকভিশন-কে ‘জঙ্গলগড়ের চাবি’ শ্যুটিংয়ের অনুমতি দিয়েছেন। তবে নির্দেশে বলা হয়, আদালতের অনুমতি ছাড়া ছবিটির মুক্তি দেওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে কাকাবাবুর কাহিনি নিয়ে সিনেমা বা টেলি সিরিয়াল তৈরির স্বত্বের ফয়সালা করার জন্য মামলায় জড়িত সব পক্ষকে হলফনামা পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশে উভয় প্রযোজক সংস্থাই নিজেদের জয় বলে দাবি করছে। আরপি টেকভিশনের কৌস্তুভ শ্যুটিংয়ের অনুমতি পেয়ে খুশি। অপরদিকে, ভেঙ্কটেশের আইনজীবী সঞ্জয়বাবুর দাবি, কোর্টের নির্দেশ তাঁদের পক্ষেই। কারণ, কোর্ট না চাইলে ছবি মুক্তি পাবে না।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়