তাইজুলের ফাইফারে থামলো লঙ্কানদের দাপট
ছবি: সংগৃহীত
শ্রীলঙ্কার রাজধানীর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (SSC) মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে ৪৫৮ রানে অলআউট হয়েছে। এতে ২৪৭ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে লঙ্কানরা পেয়েছে ২১১ রানের বড় লিড। তবে দিনের মূল নায়ক ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম, যিনি ১৩১ রান দিয়ে তুলে নেন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট—এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৭তম ফাইফার এবং বিদেশের মাটিতে পঞ্চমবার।
তৃতীয় দিন সকালে ২ উইকেটে ২৯০ রান নিয়ে খেলা শুরু করে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার দল। শুরুতেই আঘাত হানেন তাইজুল। দিনের ষষ্ঠ ও ইনিংসের ৮৪তম ওভারের প্রথম বলেই পাথুম নিশাঙ্কাকে (২৫৪ বলে ১৫৮ রান, ১৯ চার) শর্ট কভারে দাঁড়িয়ে থাকা এনামুল হক বিজয়ের হাতে ক্যাচ বানান তিনি।
ব্যাক-টু-ব্যাক ওভারে আবারও আঘাত হানেন এই বাঁহাতি স্পিনার। ৮৬তম ওভারের পঞ্চম বলে অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে (৭ রান) এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। অনফিল্ড আম্পায়ার সরাসরি আঙুল তুললেও ডিআরএস নেয় শ্রীলঙ্কা, কিন্তু বল স্টাম্পে হিট করায় আউটের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
৮৯তম ওভারের শেষ বলে প্রথম উইকেট পান টাইগার পেসার নাহিদ রানা। প্রবাথ জয়াসুরিয়াকে (১০) থার্ড স্লিপে ক্যাচ বানান মেহেদী হাসান মিরাজ। এটি রানার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট উইকেট।
৯৯তম ওভারে বল করতে এসে নাঈম ইসলাম বোল্ড করেন কামিন্দু মেন্ডিসকে (৩৩)। বাঁহাতি এই ব্যাটার বুঝে উঠতে পারেননি নাঈমের ডেলিভারি, যা সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে।
এরপর ম্যাচের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্তটি আসে কুশল মেন্ডিসের রান আউটের মাধ্যমে। ৮৭ বলে ৮৪ রান করে ভালো খেলছিলেন তিনি, কিন্তু দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে ইবাদত হোসেনের থ্রো থেকে লিটন দাস স্টাম্প ভেঙে দিলে মেন্ডিসের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
শেষদিকে ইনিংস স্লাইড করে যায় দ্রুত। ১১৬তম ওভারে তাইজুল একই ওভারে দুটি উইকেট নেন—প্রথম বলে কুশল মেন্ডিস রান আউট, আর পঞ্চম বলে আসিথা ফার্নান্দো উইকেট থেকে বেরিয়ে মিড অনে সাদমান ইসলামের হাতে ধরা পড়েন (৪ বল, ০ রান)। এর মধ্য দিয়ে ৪৫৮ রানে থামে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস।
আরও পড়ুন: আল-নসরের সাথে চুক্তি নবায়ন করলেন রোনালদো
বাংলাদেশের বোলিং বিশ্লেষণ:
- তাইজুল ইসলাম: ৪২.৫ ওভার, ৪ মেডেন, ১৩১ রান, ৫ উইকেট
- নাঈম হাসান: ১৮ ওভার, ৪ মেডেন, ৮৭ রান, ৩ উইকেট
- নাহিদ রানা: ২০ ওভার, ১ মেডেন, ৯৪ রান, ১ উইকেট
- ইবাদত হোসেন: ১৪ ওভার, ০ মেডেন, ৫৫ রান, ০ উইকেট
- মেহেদী হাসান মিরাজ: ২০ ওভার, ১ মেডেন, ৭৫ রান, ০ উইকেট
- মুমিনুল হক: ২ ওভার, ০ মেডেন, ৮ রান, ০ উইকেট
- শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসের উল্লেখযোগ্য স্কোর:
- পাথুম নিশাঙ্কা: ১৫৮ (২৫৪ বল, ১৯ চার)
- কুশল মেন্ডিস: ৮৪ (৮৭ বল)
- কামিন্দু মেন্ডিস: ৩৩ (৪১ বল)
- ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা: ৭
- প্রবাথ জয়াসুরিয়া: ১০
- দিনুশা: ১১
- থারিন্দু রত্নায়েকে: ১০
- আসিথা ফার্নান্দো: ০
- ভিশ্ব ফার্নান্দো: ২*
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস
প্রথম ইনিংসে ২১১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। তবে চা-বিরতির ঠিক আগে ভেঙে যায় উদ্বোধনী জুটি। ওপেনার এনামুল হক বিজয় মাত্র ১৯ রান (২ চার, ১ ছক্কা) করে ফিরে যান। ৩১ রানে প্রথম উইকেট হারানো টাইগারদের অপর ওপেনার সাদমান ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ১২ রানে।
চা-বিরতির সময় স্কোর
বাংলাদেশ: ২য় ইনিংস — ১ উইকেটে ৩১ রান
এখনও পিছিয়ে: ১৮০ রান, হাতে ৯ উইকেট
কলম্বো টেস্টের তৃতীয় দিন ছিল স্পিনারদের, বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে বাংলাদেশ কিছুটা হলেও ম্যাচে ফেরার আভাস পেয়েছে। তবে ২১১ রানের বিশাল ঘাটতি পূরণ করতে হলে টাইগারদের ব্যাটিং বিভাগকেই দায়িত্ব নিতে হবে। স্লো উইকেটে ব্যাট করা যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে তা নয়। একবার ব্যাটার সেট হয়ে গেলে রান ওঠে, তবে একটু ভুলেই ধসে পড়ে ইনিংস—যা শ্রীলঙ্কার মধ্য ও লোয়ার অর্ডারে হয়েছে।
বাংলাদেশের সামনে এখনও বিশাল চ্যালেঞ্জ। এই ইনিংস বাঁচাতে পারলেই কেবল ম্যাচে টিকে থাকা সম্ভব, নইলে টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারের শঙ্কা প্রবল।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








