News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:১১, ১০ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৭:৩৩, ৭ জুন ২০২০

সব ধর্মই পৃথিবীর সুরক্ষার বিধান দেয়: ফজলুন খালিদ

সব ধর্মই পৃথিবীর সুরক্ষার বিধান দেয়: ফজলুন খালিদ

পরিবেশ রক্ষায় ধর্মের ভূমিকা নিয়ে কাজ করেন ইকো-ইসলামের প্রবর্তক ফজলুন খালিদ। সুস্থ পরিবেশের জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি সক্রিয় পদক্ষেপও নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান ‘ইকো-থিয়লজিয়ান' ফজলুন খালিদের মতে, ধর্ম পৃথিবীকে বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে। ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পরিবেশ সংরক্ষণ ও ধর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।    

ফজলুন খালিদের জন্ম ১৯৩২ সালে শ্রীলঙ্কায়। ১৯৫৩ সালে তিনি ব্রিটেনে এসে বিমানবাহিনীতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। এরপর তিনি শ্রমিক সংগঠনের কাজে জড়িয়ে পড়েন৷ এর পরেও বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করেন তিনি। এভাবে তিনি রাজনীতি সচেতন হয়ে ওঠেন এবং মানুষের সেবার কাজে মনোনিবেশ করেন। তৃতীয় বিশ্বের নানা সমস্যা নিয়েও ভাবনা চিন্তা শুরু করেন। এ পর্যায়ে পরিবেশ সম্পর্কে ইসলাম ধর্মের অবস্থান জানতে আগ্রহী ওঠেন তিনি। সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তিনি নিজেই কর্মজীবন ছেড়ে জ্ঞানচর্চা শুরু করেন।

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ১৯৯৪ সালে ফজলুন খালিদ ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফর ইকোলজি অ্যান্ড এনভায়রোনমেন্টাল সায়েন্সেস' নামের একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। ৮০ বছর বয়সেও ফজলুন খালিদ ‘ইকো-ইসলাম' আরও জনপ্রিয় করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। খালিদ মনে করেন, ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার সময় মাটিতে মাথা ঠেকাতে হয়। সেই মাটির সুরক্ষার তাগিদ ছাড়াও নাতিনাতনিদের জন্যও সুন্দর এক বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে চান তিনি।

তানজানিয়ার জাঞ্জিবারে এই সংগঠন পরিবেশ রক্ষায় এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। মাত্রাতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে সেখানকার জেলেদের উপার্জন কমে গেলে তারা প্রবাল প্রাচীরে ডিনামাইট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেখান থেকে মাছ ধরার পরিকল্পনা করে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংগঠনগুলি চার বছর চেষ্টা করেও তাদের মত বদলাতে পারে নি। কিন্তু, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফর ইকোলজি অ্যান্ড এনভায়রোনমেন্টাল সায়েন্সেস' ওই জেলেদের নিয়ে এক ওয়ার্কশপের আয়োজন করে। কোরান সংক্রান্ত মাত্র দুই দিনের ওই ওয়ার্কশপে অংশ নেবার পর ধর্মপ্রাণ জেলেরা নিজেদের মত বদলায়।

ইসলাম ধর্ম যাতে পৃথিবী বাঁচানোর কাজে লাগে, সে উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন ফজলুন খালিদ। একজন মুসলমানের পরিবেশবাদী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোরানে অবশ্যই কিছু মৌলিক নীতিমালা স্থির করে দেওয়া রয়েছে। মহানবীর আচরণে তার বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন ষষ্ঠ সুরার ১৪১ নম্বর আয়াতে লেখা রয়েছে, ‘আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালবাসেন না'। এই আয়াত আরও গুরুত্ব পেয়েছিল, যখন এক সাহাবী  গোসলের পর অবশিষ্ট পানি ফেলে দিয়েছিলেন, মহানবী এজন্য তাকে ভর্ৎসনা করেছিলেন। মহানবী তাঁকে বলেছিলেন, উদ্বৃত্ত পানি নদীতে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত, যাতে ভাটির দিকে অন্য মানুষের চাহিদা পূরণ করা যায়।

সম্প্রতি বিভিন্ন মুসলমানদের হজসহ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের জন্য পৃথিবীর নানা প্রান্তে তীর্থযাত্রায় লোকসমাগম পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে বলে অনেকে বলে থাকেন। এ প্রসঙ্গে ফজলুন খালিদ বলেন, "আধুনিক যুগ বা শিল্পবিপ্লবের অনেক আগে থেকেই ধর্মীয় ঐতিহ্য চলে আসছে। পূর্বপুরুষদের দেখানো পথে তীর্থযাত্রীদের সমাগমের কারণে পরিবেশ দূষণের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণও পাওয়া যায়নি। অতীতে অবশ্য আজকের মতো পরিবহণ ও যোগাযোগের এমন বিস্তীর্ণ অবকাঠামো ছিল না। ফলে আজ এত মানুষের সমাগম হলে পরিবেশের উপর তার প্রভাব পড়বেই। তবে তীর্থযাত্রার উপর কিছু নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা চলছে। অন্যদিকে মনে রাখতে হবে, বিশ্বব্যাপী পর্যটনের মাত্রা ও পরিবেশের উপর তার প্রভাবও তীর্থযাত্রার তুলনায় অনেক বেশি।

পবিত্র কোরানের চল্লিশতম সুরার ৫৭ নম্বর আয়াত ‘সৃষ্টির সবকিছু তোমার চেয়ে বড়' উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের বুঝতে হবে যে, আজকের আধুনিক সমাজে কেউই বিচ্ছিন্ন নয়। চীনে কেউ বৃক্ষরোপণ করলে ইউরোপেও তার সুফল পাওয়া যায়। ইংল্যান্ডে গাছ কাটলে জার্মানিতে তার কুফল দেখা যায়।

ফজলুন খালিদ বলেন, মাথার উপর ছাদ ভেঙে পড়লে কে ক্যাথলিক, কে হিন্দু অথবা কে মুসলিম – তাতে কিছুই এসে যায় না। সবাই একই পৃথিবীতে বসবাস করে, তাই সংলাপের মাধ্যমে সবাইকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সব ধর্মই পৃথিবীর সুরক্ষার বিধান দেয় বলে মনে করেন তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়