৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান
ফাইল ছবি
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের শরিক জোট।
বেসরকারি ফলাফলে দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসন পেয়ে এককভাবে সরকার গঠনের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে দলটি। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর বাংলাদেশে পুনরায় কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হচ্ছেন দেশের পরবর্তী সরকারপ্রধান।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ভোট গণনা শেষে বিভিন্ন আসনের বেসরকারি ফল প্রকাশ হতে থাকে। রাত ২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১০টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭২টি আসনে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন।
এদিকে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৬০টির বেসরকারি ফল ঘোষণায় বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ১৯৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৮টি আসন এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন চারটিতে। শেরপুর-৩ (ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী) আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকায় এবার ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: একক সরকার গঠনে আশাবাদী তারেক রহমান
দলটির পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় গেলে চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ দুটি আসনেই জয় অর্জন করেছেন।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে এরশাদ আমলে কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন (কিছু তথ্যে ১৯৮৯ সাল উল্লেখ রয়েছে)। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশে আর কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেননি। দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। বাস্তবে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাবে বাংলাদেশ।
ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোট শেষে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র ২৭৪ জন এবং নারী প্রার্থী ৮৩ জন যাদের মধ্যে দলীয় ৬৩ ও স্বতন্ত্র ২০ জন।
নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। এছাড়া ১২৪টি দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল।
নির্বাচনী বিজয় উপলক্ষ্যে কোনো ধরনের মিছিল, সভা বা সমাবেশ না করার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








