News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:১৬, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

একক সরকার গঠনে আশাবাদী তারেক রহমান

একক সরকার গঠনে আশাবাদী তারেক রহমান

ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচন, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, দুর্নীতি, গুম-খুন ও সামাজিক ন্যায়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তারেক রহমান বলেন, আমরা আশা করছি যে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষেরও তাই প্রত্যাশা। আমরা আশাবাদী। ১৭ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফিরে নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়াকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, এত বছর পর এসেছি, মানুষের চোখে-মুখে প্রত্যাশা দেখেছি। অন্যদিকে আসার পাঁচ দিন পরই আমার মা মারা গেলেন। নির্বাচনি প্রস্তুতি এবং ব্যক্তিগত শোক দুটোর সামঞ্জস্য বজায় রাখা আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

তরুণ ও নারী ভোটারদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

তারেক রহমান তরুণ ও প্রথমবার ভোটারদের নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকার গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, আমাদের মেনিফেস্টোতে তরুণ, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও নারীদের জন্য আলাদা পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। আমরা বিশ্বাস করি, দেশ গঠন করতে হবে সকলকে নিয়ে।

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারকালীন বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষানীতি নারী সমাজকে এমপাওয়ার করার প্রথম পদক্ষেপ ছিল। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে এই শিক্ষার সুযোগ আরও উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণ করব। পাশাপাশি প্রান্তিক পরিবারের গৃহিণীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করব, যা মানসিক ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করবে। নারীরা যাতে নিরাপদে কর্মসংস্থান করতে পারেন, আমরা বিশেষ শিল্প ও কেয়ার সেন্টার স্থাপন, নারীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, নারী ভোটারদের মধ্যে যেসব ভয় বা উৎকণ্ঠা আছে, তা আমাদের পক্ষ থেকে নয়। আমরা সবসময়ই নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলেছি। তাদের শিক্ষার সুযোগ এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করাই আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।

আন্তর্জাতিক ও প্রতিবেশী সম্পর্ক

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, যে কোনো চুক্তি যদি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হয়, আমাদের স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব থাকবে। আমি আমার দেশের মানুষের প্রতিনিধি। 

চীনের ব্যাপারে তার বক্তব্য, বর্তমান বিশ্বে আমাদের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ বিভিন্ন দেশে ব্যবসা, চাকরি করবে। দেশের স্বার্থ রক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে আমরা সম্পর্ক উন্নয়ন করব।

আরও পড়ুন: নির্বাসন থেকে বাংলাদেশের ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান: রয়টার্স

সরকার গঠন ও রাজনৈতিক ভারসাম্য

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হবএককভাবে। একটা ব্যালেন্সড রাষ্ট্র চাইলে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা উচিত। সবাই সরকারে থাকলে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, শক্তি প্রয়োগ করেও ধরে রাখা সম্ভব নয়। ৫ই আগস্ট এর উদাহরণ।

দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি

দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি এবং ব্যাংক ডিফল্ট দুটো ভিন্ন বিষয়। আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অতীত সরকারের সময়ে হয়রানি করা হয়েছিল। তাদের ন্যায্য ব্যবসায়িক সুবিধা বন্ধ ছিল। তাই অনেকেই ডিফল্ট হয়ে গেছেন, কিন্তু এটি দুর্নীতির সমার্থক নয়।

গুম, খুন ও বিচার

গত ১৫-১৬ বছরে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা, অন্য গণতান্ত্রিক দল এবং সাধারণ মানুষ যারা অত্যাচারের শিকার হয়েছেন, তাদের জন্য ন্যায়বিচার প্রয়োজন। একটি সভ্য দেশে গুম বা খুনের শিকার হলে বিচার বাধ্যতামূলক।

তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট হয়েছে, বিএনপি নির্বাচনে এককভাবে সরকার গঠনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তরুণ, নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, বিচারপ্রাপ্তি, দুর্নীতি দমন এবং স্বার্থনিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতি এসবই তার নেতৃত্বের মূল প্রতিশ্রুতি। পাশাপাশি রাজনৈতিক ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি বিশ্বাস ও দেশের স্বার্থ রক্ষার বার্তাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়