News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:০০, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

‘অহংকার, আনন্দ ও বেদনার মহাকাব্যিক দিন ১৬ ডিসেম্বর’

‘অহংকার, আনন্দ ও বেদনার মহাকাব্যিক দিন ১৬ ডিসেম্বর’

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ৫৫তম বিজয় দিবসকে সামনে রেখে দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জাতি বিজয় অর্জন করে। এ দিনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণে ভরে উঠুক সকলের জীবন।

তারেক রহমান মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এই দিনে ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং ‘বাংলাদেশ’ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধের সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। বিদেশি শৃঙ্খল থেকে মাতৃভূমি মুক্ত করতে যারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন—তাদের প্রতি জানাই সশ্রদ্ধ সালাম।

তিনি স্মরণ করান, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হয়। একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী পরাজিত হয়। দেশের অদম্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে এ বিজয় ছিনিয়ে আনে। তাই ১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ ও বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন। এই মহান দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, নতুন রাষ্ট্রের মর্মমূলে শোষণমুক্ত ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক গণতান্ত্রিক নীতিমালার ওপর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ছিল। তবে অমানবিক ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী বারবার সেই প্রত্যয়কে মাটিচাপা দিয়ে জনগণের ওপর সর্বনাশা দুঃশাসন চাপিয়ে দিয়েছে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা থামিয়েছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্য বিএনপির বিজয় দিবসের সভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান

তিনি আরও সতর্ক করেন, চক্রান্তকারীদের নীলনকশা এখনও চলমান। আগ্রাসী শক্তি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অবজ্ঞা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এদেশীয় এজেন্টরা অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্ন করার চক্রান্তে লিপ্ত। গত ১৬ বছর ধরে একের পর এক প্রহসনের একতরফা নির্বাচন চালিয়ে জনমতকে তাচ্ছিল্য করেছে। নাগরিক স্বাধীনতা অদৃশ্য করা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নস্যাৎ করা হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রহীন দেশে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার দাপটে হতাশা, ভয় ও নৈরাজ্যের অন্ধকার নেমে আসে। ক্ষমতা জবরদখলকারীরা অসংখ্য মানুষকে অদৃশ্য বা হত্যা করছে, লাখ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করছে। যারা জীবনের দীর্ঘ সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, তাদের অন্যায়ভাবে বন্দি করা হয়েছে। 

তিনি উল্লেখ করেন, অমানবিক নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখতে একের পর এক গণবিরোধী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করতে মহান বিজয় দিবসের প্রেরণায় বলীয়ান হয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে। ২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ইতিহাসের এক নিষ্ঠুরতম একনায়ক পরাজিত হন। এ সময় দেশে আবার স্বাধীনতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের প্রত্যাশা জন্মায়।

বিজয় দিবসের দিনে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নির্বিঘ্নে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন মাধ্যমে জনকল্যাণমুখী, জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য আমাদের অঙ্গীকার হোক—ভুলে যাক বিভাজন, ভুলে যাক হিংসা, মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

শেষে তিনি সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন এবং দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান: আল্লাহ্ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়