News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৫:০৫, ১২ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ১৭:০৬, ২৪ জানুয়ারি ২০২০

সংঘর্ষে ছাত্রলীগের নগর সভাপতি নিহত

সংঘর্ষে ছাত্রলীগের নগর সভাপতি নিহত

কুমিল্লা: ছাত্রলীগের দুপক্ষের গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন কুমিল্লা নগর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

শনিবার বিকেলে নগরীর কান্দিরপাড়ে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের মধ্যে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তুমুল গোলাগুলি ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। এতে করে নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় নগর ছাত্রলীগের সভাপতিসহ কয়েকজন প্রতিপক্ষের কর্মীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হন। আহত হন অন্তত ১০ জন।

শনিবার বিকেলে কর্মী সমাবেশের পর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত নগর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়েও তার শরীরের আঘাতের স্থান থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে পারেননি। তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে তিনি মারা যান।

এছাড়া আহতদের মধ্যে অপর ছাত্রলীগ নেতা গোলাম সারওয়ার কাউসারকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেয়া হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কান্দিরপাড় এলাকায় কুমিল্লা টাউন হলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের উপস্থিতিতে সংগঠনের জেলা শাখার কর্মী সমাবেশ হয়। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা যখন বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তখন ছবি তোলার জন্য জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দুটি পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এর পরই শুরু হয়ে যায় সংঘর্ষ। দ্রুতগতিতে টাউন হল মাঠ ত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আ ফ ম আফসার উদ্দিন টুটুলের অনুসারী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারওয়ার কাউসারকে ধাওয়া করে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন আহমেদের কর্মীরা। এসময় টুটুলের অনুসারীরা নজরুল অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে টাউন হলের সামনে অবস্থান নেয় জালাল উদ্দিনের অনুসারী নেতাকর্মীরা। দুদিক থেকে দুপক্ষের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে গোলাগুলি করে। এসময় দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসময় ব্যাপক বোমাবাজিও হয়।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামকে কয়েকজন মিলে নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি একটি ভবনের সিঁড়িতে পড়ে থাকেন। পরে তাকে উদ্ধার করে শহরের ঝাউতলায় মুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জালালের অনুসারী। তিনি সংগঠনটির জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মিঠুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে দৌড়ে পালানোর সময় ছাত্রলীগ নেতা গোলাম সারওয়ার কাউসারকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীরা। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা নেয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় কান্দিরপাড় এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ ছোটাছুটি করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় শহরজুড়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নিয়ে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়