অবিচার আমরা মেনে নেব না কোনো অবস্থাতেই: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অবিচার আমরা মেনে নেব না কোনো অবস্থাতেই। এছাড়া দুর্নীতিমুক্ত দেশ ও বিচারবিভাগের স্বাধীনতা চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
আমির আরও বলেন, দেশটা তো সংসদ থেকেই পরিচালিত হবে ইনশাআল্লাহ। সংসদে একটা দল সরকারি দল হিসেবে আটেকটা দল বিরোধী দল হিসেবে থাকবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন, নির্বাচনের সময় আমরা যে কথাগুলো বলেছি, সেগুলো আমাদের মুখের কথা ছিল না, সেগুলো আমাদের বুকের কথা। আমরা চাইবো সবাই তিনটি শর্ত মানুক। এক- এ সোসাইটি আগাগোড়া দুর্নীতিগ্রস্ত। দুর্নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
দুই- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। আমাদের বিচার বলতে কিছুই নাই। দেখেন না, এতগুলো ঋণ খেলাপি কীভাবে (সংসদ নির্বাচনে) চান্স পায়? এদের হাতে কীভাবে দেশ নিরাপদ হবে? হবে না তো। কারণ এরা তো সব সময় নিজের স্বার্থ দেখে।
এ জায়গাটায় (সংসদে) এমন মানুষ যাওয়া দরকার যে নিজের স্বার্থ দেখবে না, ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখবে। ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখলে কেউ ঋণখেলাপি হয় না। ঋণখেলাপি হলে আবার কীভাবে নেতা হতে চায়? লজ্জিত হওয়া উচিত। জনগণের টাকা আমার পকেটে ঢুকে আছে, আমি দিতে পারছি না। কারো ওপর সামান্য অবিচার হলেই কিন্তু আমরা প্রতিবাদ করব।
আরও পড়ুন: ৩০ আসনে পুনঃগণনার দাবিতে ইসিতে ১১ দলীয় জোট নেতারা
এমনকি সরকারি দলের কারো ওপরও অবিচার হলেও আমরা প্রতিবাদ করব। অবিচার আমরা মেনে নেব না কোনো অবস্থাতেই, যোগ করেন আমির।
সন্ধ্যায় তারেক রহমানের দেখা করা নিয়ে প্রশ্ন করলে জামায়াতের আমির বলেন, তারেক সাহেব কি নিয়ে আলাপ করবেন- এটা ওনার মনের ব্যাপার। আমি তো ওনার মনের ব্যাপার বলতে পারব না। উনি আসলে আমার সঙ্গে আলাপ করলে দেশ এবং জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইনশাআল্লাহ আমরা আলাপ করব।
শক্তিশালী বিরোধী দল নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সংসদ চলতে হলে তো সরকারি দল ও বিরোধী দল লাগবেই। সরকারি দল বিরোধীদল হাতে হাত রেখেই চলবে যদি দেশ সঠিক পথে চলে। যদি বেঠিক পথে চলে, তাহলে ওই চাকা চালাব না।
জাতীয় পার্টির মতো বিরোধী দল হবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, জাতীয় পার্টি তো এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। এরা তো এখন ভূগোলে নাই। কেন নয়, তারা (জাতীয় পার্টি) তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এখন তারা শুধু ভোটের জগত থেকে যান নাই, জনগণের মন থেকেও উঠে গেছেন। কারণ তারা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেন নাই। জামায়াতে ইসলামী ওই ভুল করবে না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামিউল হক ফারুকী, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক ভূঞা, কাপাসিয়ার নবনির্বাচিত এমপি সালাউদ্দিন আইয়ুবী এবং ঢাকা উত্তর মহানগর জামায়াতের মজলিসে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ।
এর আগে তিনি রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় সড়কপথে কিশোরগঞ্জে পৌঁছান। পরে সকাল ১০টার দিকে নিকলী উপজেলার শিমুলবাঁক এলাকায় নিহত জামায়াত সমর্থক শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। এরপর তিনি নিকলী উপজেলার ছাতিরচর এলাকায় গিয়ে মৃত আরেক জামায়াত কর্মী আব্দুস সালামের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান। জনসভা শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস ছালাম (৬০) নামে এক কর্মী নিহত হন। এ ছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনা মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশে যাওয়ার পথে স্ট্রোকে শাহ আলম (৫০) নামে এক সমর্থকের মৃত্যু হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








