News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৫৮, ৯ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০২:১৩, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

‘মানুষ মঙ্গলে যাবে কিন্তু আবার পৃথিবীতেই ফিরবে’

‘মানুষ মঙ্গলে যাবে কিন্তু আবার পৃথিবীতেই ফিরবে’

মানুষ মঙ্গলে যাবে। সেখানে বসবাস করবে। কিন্তু কারা করবে অর্থাৎ কোন প্রজাতির মানুষ, কোন দেশের মানুষ? নিশ্চয়ই উন্নত বিশ্বের মানুষ। আগে হয়তো যাবে জি-৭ সদস্যভুক্ত দেশের মানুষ। তারপর অন্যান্য দেশের ‘উৎকৃষ্ট শ্রেণির’ দুপেয়েগুলো। মঙ্গলগ্রহ হয়ে উঠবে উঁচু-ধনিক শ্রেণির মানুষের বসবাসের স্থান। ‘এঁরা’ তথ্য প্রযুক্তিতেও সবচেয়ে উন্নত হবে। ‘তাঁদের’ কলোনি হবে পৃথিবী। তাদের রসদ, খাবার-দাবার জোগান দিতে হবে আমাদেরই, মানে যারা পিছিয়ে পড়া মানুষ তারাই যোগাবে মঙ্গলবাসীদের সব প্রয়োজন। লালগ্রহবাসী নীল রক্তের ওই অভিজাতরা মাঝে-মধ্যে যখন পৃথিবীতে আসবেন সফরে-- আমাদের উৎপাদিত সবকিছুই নিয়ে যাবে তারা ফেরার সময়ে। আমরা তাদের চাহিদা/প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হলে আমাদের ওপর তারা অন্যায়-অত্যাচার চালাবে। তারা প্রয়োজনে মঙ্গল গ্রহকে পৃথিবীর কাছাকাছি নিয়ে আসবে আবার প্রয়োজনে দূরে সরিয়ে নিবে। তারা মহাকর্ষ তথা মাধ্যাকর্ষণ বলকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পাবে। যেরকমভাবে একসময় সোভিয়েট ইউনিয়ন চিন্তা করেছিল মহাকর্ষ এবং মাধ্যাকর্ষণ বলকে নিয়ন্ত্রণ করে পৃথিবীটাকে পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিকে একটু হেলিয়ে ঘুরানোর জন্য, যাতে বরফাচ্ছন্ন সাইবেরিয়াতে সূর্য কিরণ পড়ে। এতে সাইবেরিয়াতে অনেক ফসল হবে। মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে সাইবেরিয়াতেও।

কিন্তু পরবর্তীকালে সেই পরিকল্পনা অজানা কারণে বন্ধ থেকে যায়। তবে বর্তমানেও মহাকর্ষ এবং মাধ্যাকর্ষণ বলকে নিয়ন্ত্রণ করতে মানুষের চেষ্টা থেমে নেই। সেই চেষ্টা মঙ্গলে গিয়েও তারা প্রাণপণে চালাবে এবং সফল হবে- ধারণা করি। মহাজাগতিক কোনো রশ্মি, উল্কা, ধূমকেতু কিংবা অন্যকিছু পৃথিবী অথবা মঙ্গল গ্রহের দিকে ছুটে আসলে সেই মহাকর্ষ এবং মাধ্যাকর্ষণ বলকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতার বলে গ্রহগুলোকে অন্যদিকে সরিয়ে নিয়ে যাবে যাবে তারা। কিন্তু এতে পৃথিবীর জলবায়ু, জোয়ার-ভাটা কিংবা চাঁদ এবং পৃথিবীর মধ্যকার যে সম্পর্ক তার ব্যাঘাত ঘটবে না।

তবে মহাকর্ষ এবং মাধ্যাকর্ষণ বলকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতার সবটুকু থাকবে মঙ্গলগ্রহে বসবাস যারা করবে সেই এলিটদের হাতে। ‘তাঁরাই’ হবে পৃথিবী নামক গ্রহের নিয়ন্ত্রক। পৃথিবীতে বসবাসকারীরা ‘তাঁদের’ খুশি রাখার জন্য সর্বদাই ব্যতিব্যস্ত থাকবে।

যাহোক, পৃথিবীর মানুষ মঙ্গল গ্রহবাসীদের হুকুম পালন আর তাদের সুখি রাখার জন্য এতোটাই ব্যস্ত হয়ে যাবে যে নিজেদের প্রেম-ভালোবাসা, যৌনতা, মানবিকতা সবকিছুই ভুলে যাবে। এই ‘ইতর শ্রেণির’ স্মরণশক্তিও হ্রাস পাবে। ফসল উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাবে। ফলে পৃথিবীর মানুষদের ওপর মঙ্গলওয়ালাদের অত্যাচার বাড়তেই থাকবে। যেরকম ব্রিটিশরা বাঙালির ওপর জোর করে, অত্যাচার করে নীল চাষ করাতো; ঠিক সেইরকম হবে।  

কিন্তু সবদিন একরকম যায় না। অভিজাত মঙ্গলদের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে একসময় পৃথিবীর মানুষ বিদ্রোহ করবে। বিদ্রোহের নেতৃত্বে থাকবে একদল তরুণ হ্যাকার। তারা মঙ্গলের কিছু প্রযুক্তি হ্যাক করে নিয়ে আসবে পৃথিবীতে। হ্যাকাররা হ্যাক করে মঙ্গল গ্রহের অনেক যুদ্ধাস্ত্র ডি-কোড করে নষ্ট করে দেবে। হ্যাকাররা পৃথিবীতে অনেক গভীর গুহা সৃষ্টি করবে। সেখানে বসে বসে তারা মঙ্গলগ্রহের প্রযুক্তিগুলো নষ্ট করতে চাইবে। কিন্তু মঙ্গলগ্রহবাসীরা মঙ্গলগ্রহকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে। হ্যাকারদের হ্যাক করার ক্ষমতা কমে যাবে। এরপর মঙ্গলবাসীরা পৃথিবীর ওপর বোমা বর্ষণ করবে। পৃথিবীর মানুষ বিলুপ্ত করে দিয়ে অন্য প্রজাতি নিয়ে আসবে এই পৃথিবীতে। ওই প্রজাতি হবে অনুভূতিহীন, রক্ত-মাংসহীন, যৌন-চাহিদাবিহীন যন্ত্র যার নাম হচ্ছে রোবট। রোবটরা একসময় বুমেরাং হবে।

রোবটরা পৃথিবীতে কয়েকশ বছর কাজ করতে করতে এখানকার অক্সিজেন আর নাইট্রোজেনসহ অন্যান্য মৌলিক কণিকা নিজস্ব প্রক্রিয়ায় শরীরের ভেতর প্রবেশ করাবে। এতে একসময় রোবটরা মানুষের মতো অনুভূতির অধিকারী হবে। পৃথিবীর রূপ এবং রসে মুগ্ধ হয়ে যাবে। ভিনগ্রহের জন্য তারা কাজ করতে চাইবে না। রোবটরা ধ্বংস হয়ে যাওয়া হ্যাকারদের প্রযুক্তি খুঁজে পাবে। তারা মঙ্গলগ্রহের সকল প্রযুক্তি আয়ত্ত করে ফেলবে। ফলে মঙ্গলের সাথে পৃথিবীর যুদ্ধ শুরু হবে। রোবটরাও মহাকর্ষ এবং মাধ্যাকর্ষণ বলকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পাবে। মঙ্গল আর পৃথিবীর মধ্যে হবে এক ভয়াবহ যুদ্ধ।

সত্যিকারের মহাকাশ যুদ্ধ হবে এটা। ধীরে ধীরে তা মহাজাগতিক যুদ্ধের দিকে যাবে। কয়েকশ বছর যুদ্ধ চলবে। সেই যুদ্ধে মঙ্গলের মানুষ আর পৃথিবীর রোবট কেউ কাউকে কোনো ছাড় দিবে না। রোবট নিজে নিজেই কোটি কোটি রোবট বানাবে। তারা আকাশে-মহাকাশে উড়তে পারবে। একসময় রোবটরা মঙ্গলগ্রহের দিকে ধাবিত হবে আলোর গতিবেগে। মঙ্গলের বিজ্ঞানীরা তখন গ্রহটির মহাকর্ষ শক্তির নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ভুল করে ফেলব। সংঘর্ষ হবে অন্য এক গ্রহের সঙ্গে। মঙ্গলগ্রহ কেঁপে উঠবে, ভূমিকম্প হবে, প্রলয়ংকরী ঝড় হবে মহাকাশে। মঙ্গলের বাসিন্দারা ভয়ে দিক-বিদিক ছুটাছুটি করতে থাকবে। কিন্তু তখন আর কোনো নিস্তার থাকবে না কারো। একদিকে রোবটদের আক্রমণ অন্যদিকে মহাকাশের নাক্ষত্রিক ঝড়। মৃত্যুবরণ করবে মঙ্গলের প্রায় সব বাসিন্দা। শুধু বেঁচে থাকবে কিছু বিজ্ঞানী এবং উঁচু শ্রেণির মানুষ এবং তাদের পরিবার।

রোবটরাও সেই মহাকাশীয় ঝড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাঁচতে পারবে না। তারা ক্ষণকাল টিকে থাকতে পারবে। রোবটদের দেহ ঝড়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন, টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। টুকরোগুলো মহাকাশের ঝড়ের গতির সাথে সাথে মহাকাশে ভাসতে থাকবে। কয়েকদিন পর ধীরে ধীরে সে টুকরোগুলো পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়বে। এই অবস্থা দেখে পৃথিবীর বাকি রোবটগুলো কাজ করার শারীরিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। শুরু করবে নিজেরাই নিজেদের ধ্বংযজ্ঞ। শেষতক কোনও রোবট আর পৃথিবীতে থাকবে না।

মঙ্গলে দেখা দিবে তীব্র খাদ্য ও পানি সংকট। ঝড়ের পর টিকে থাকা মঙ্গলের বাসিন্দারা পৃথিবীর দিকে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠবে। কিন্তু ইতোমধ্যে তারা মহাকর্ষ এবং মাধ্যাকর্ষণ বলকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। তাহলে কী করে ফিরে আসবে পৃথিবীতে- এই চিন্তায় তারা মাথা খারাপ অবস্থায় দিন পার করতে থাকবে।

একদিন হঠাৎ একটি ধূমকেতু মঙ্গলের কাছাকাছি চলে আসবে। সেই ধূমকেতুর তীব্র বেগ এবং গতির ফলে কেঁপে উঠবে  মঙ্গল। এর বাসিন্দারা ধূমকেতুর প্রভাবে মঙ্গল থেকে ছিটকে পড়বে। সুতো ছেঁড়া ঘুড়ির মতো ভাসতে থাকবে আকাশে। একসময়ে ধূমকেতুটি কোনও এক অজানা কারণে শান্ত হয়ে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হবে। মঙ্গলের সেই ভাসমান বাসিন্দারা ধূমকেতুর গতিতে ধূমকেতুতে ভর করে পৃথিবীতে এসে টপাটপ করে পড়তে থাকবে। তারা পুরনো সেই পৃথিবীতে পড়েই চিৎকার করে কাঁদতে থাকবে। তাদের কয়েক বছরের কান্নায় ভেজা বসুন্ধরার সজীব পলিতে জন্মাবে নতুন গাছ, সবুজ ঘাসসহ হাজারো উদ্ভিদ। পৃথিবী ধীরে ধীরে ফের সতেজ হয়ে উঠবে। (পুনশ্চ: পুরো লেখাটাই আমার নিছক কল্পনা)
লেখক: সরকারি কর্মকর্তা

নিউজবাংলাদেশ.কম/একে

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়